গ্যাস বিক্রির ১৩০০ কোটি টাকা দিচ্ছে না দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

গ্যাস বিক্রির ১৩০০ কোটি টাকা দিচ্ছে না দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

দুটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে গ্যাস বিক্রি করে ফেঁসে গেছে তিতাস। ১৩১৬ কোটি টাকার বকেয়া আদায় করতে গিয়ে উল্টো মামলায় জড়িয়ে গেছে এই সরকারি প্রতিষ্ঠান।

এখন গ্যাস বিল আদায় করতে গিয়ে মামলা জট ছাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বিষয়টিকে ‘কিছুটা হাস্যকর’ বলছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। কমিশন বলছে, এই দুই বেসরকারি কোম্পানির দাবিই অযৌক্তিক।

কমিশনের মতে, কেউ যদি গ্রিড থেকে গ্যাস নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সে নিজেই বিপণন করে তবে তাকে অবশ্যই বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শ্রেণিতে যে দর আছে সেটাই পরিশোধ করতে হবে।

কিন্তু ওই দুই কোম্পানি সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে দরে গ্যাস ব্যবহার করা হয় সে দামেই পরিশোধের দাবি করে আসছে।

‘এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনেও তারা এ বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কমিশন তাদের দাবির পক্ষে সায় না দেওয়ায় এখন উচ্চ আদালতে গেছে।’

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, এভারেজ পাওয়ার এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের কাছে ১৩১৬ কোটি টাকার বকেয়া জমেছে। যা আদায় করতে পারছে না বিতরণ কোম্পানিটি।

সম্প্রতি সরকারি কোম্পানির বকেয়া আদায় সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লা বিষয়টি সামনে আনেন।

তিনি বলেন, বণিজ্যিক হলেও ওই দুটি কেন্দ্র সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান দর পরিশোধ করতে চাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪ টাকা ৪৫ পয়সা। কিন্তু বাণিজ্যিক শ্রেণিতে (ক্যাপটিভ পাওয়ার) কেউ উৎপাদন করলে তাকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ১৩ দশমিক ৮৫ টাকা করে পরিশোধ করতে হয়।

জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন বৈঠকে বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কেউ বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাস নিলে তাকে সাধারণ দামে গ্যাস দেওয়া ঠিক নয়। এই সুবিধা একজনকে দিলে বাকিরাও চাইবে। সেক্ষেত্রে সরকারের হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কম দামে গ্যাস দেওয়ার একটি উদ্দেশ্য আছে। সরকার এর মধ্য দিয়ে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বাড়াতে চায়। কিন্তু কেউ সেই দামে গ্যাস নিয়েতো ব্যবসা করতে পারে না


Leave a Reply

Your email address will not be published.