‘সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে’ প্রমাণ করতে চুয়াডাঙ্গা ও কলকাতায় দুই ব্যক্তির সংগ্রাম

‘সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে’ প্রমাণ করতে চুয়াডাঙ্গা ও কলকাতায় দুই ব্যক্তির সংগ্রাম

“পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে” এটাই সকলে জানেন। এবার পৃথিবী সূর্যের চারদিকে নয়, বরং সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এমন দাবি করলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আমানতউল্লাহ।

নিজেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী দাবি করা আমানতউল্লাহর দাবি, মানুষ ৪০০ বছর ধরে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে- এমন ভুল তত্ত্বের ওপর বিশ্বাস করে আছে। তার দাবি, বুধ এবং শুক্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে আর পৃথিবী ঘুরছে নিজের কক্ষপথে।

একইসঙ্গে অন্যান্য গ্রহও ঘুরছে সূর্যের চারপাশে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এই কথা বৈজ্ঞানিকভাবেই সত্য। এই সত্য প্রতিষ্ঠা করতে প্রাণ দিতে হয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্রুনোকে।

এরপর ১৬ শতকের অন্যতম জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে’ এই মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তা প্রমাণ করেন।

এই তথ্য গ্রহণযোগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন ঠিক তার উলটো। তাঁর এই দাবির কথা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

কলকাতার কার্তিকচন্দ্র পাল নামের এক ব্যক্তি একই মত নিয়ে নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠেন। এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। লোকে তাকে কেসি পাল বলেই চেনেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি তাঁর বিশ্বাস করা তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হাওড়া স্টেশন, ডালহৌসি চত্বর, কলকাতা বইমেলা, এমনকি চলন্ত বাসেও তাঁর পোস্টার এমনকি নিজের হাতে আঁকা ছবি, পোস্টার নিয়ে প্রচার করেছেন।

শুধু বিশ্বাসী নন বরং তার তত্ত্বকে প্রমান করার জন্য শুধু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসাই নয় ইংল্যান্ডের রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিতেও চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। পৃথিবীকে তিনি একটি মৃত নক্ষত্রর সঙ্গে তুলনা করেছেন আর সূর্যকে বলেছেন পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে চলা একটি গ্রহ, এমনকি চাঁদও সূর্যের মতো পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরা একটা গ্রহ। তাঁর মতে পৃথিবীর আহ্নিক গতি আছে, তাই দিনরাত্রি হয়, কিন্তু পৃথিবীর বার্ষিক গতি নেই কিন্তু পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘুরছে বলেই ঋতু পরিবর্তন হয়।

কার্তিক চন্দ্র ব্যাক্তি হাওড়া জেলার আনুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর কিছুদিন কাজকর্মের জন্য কলকাতায় থাকেন, পরে তিনি ইন্ডিয়ান আর্মিতেও যোগ দেন। এইরকম পাগলামির জন্য পরে তাঁকে সেখান থেকেও বহিস্কার করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে একটি বাংলা সিনেমাও তৈরি হয়। অরিজিৎ বিশ্বাসের বাংলা সিনেমা “সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে” তে অভিনয় করেছেন মেঘনাদ ভট্টাচার্য, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, অঞ্জন দত্ত, পরান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখরা।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গার আমানতউল্লাহ বলছেন “মানুষ ৪০০ বছর ধরে ভুল তত্ত্বের উপর বিশ্বাস করে আছে। পৃথিবী নয়, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এটাই চিরন্তন সত্য। ” তাঁর দাবি বুধ এবং শুক্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। আর পৃথিবী ঘুরছে নিজের কক্ষপথে।

পাইকপাড়া গ্রামের জরাজীর্ণ ঘরে বসে ২৬ বছর ধরে তিনি গবেষণার পর পৃথিবীকেন্দ্রিক ‘বিশ্বতত্ত্বের মডেল’ আবিষ্কার করেন। নানা জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ তাঁর ‘আবিষ্কার’ দেখতে আসেন। বিভিন্ন মেলায় তিনি বিজ্ঞান বিষয়ের আবিষ্কার প্রদর্শন করেন। এই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে বিক্রি করতে হয়েছে পৈত্রিক জমি।

আমানতউল্লাহর জানান, নিজের বাড়িতে অনেকগুলি মডেল তৈরি করেছেন তিনি। ‘পৃথিবী তত্ত্বের’ উপর তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এই বইগুলোতে তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের সুদৃষ্টি পড়লে তার আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। আমানতউল্লাহ জানান, নিজের বাড়িতে অনেকগুলি মডেল তৈরি করেছেন তিনি। ‘পৃথিবী তত্ত্বের’ উপর তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এই বইগুলোতে তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের সুদৃষ্টি পড়লে তার আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।

তাঁর এই তত্ত্ব স্থানীয় অনেকেই বিশ্বাস করেছেন। অনেকের কাছেই আবার তিনি হয়েছেন হাসির পাত্র। আমানতউল্লাহর দাবি, অনেক গবেষণার শুরুতেই বিজ্ঞানীদের পাগল বলে উপহাস করা হয়েছে, আর নিজের গবেষণার প্রতি যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে তাঁর। যদিও বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এই দাবি ভুল।


Leave a Reply

Your email address will not be published.