‘ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখো, আমি রোজা ভেঙে মরতে চাই’

‘ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখো, আমি রোজা ভেঙে মরতে চাই’

নিউজ ডেষ্ক- শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানিয়েছেন, কক্সবাজারে জমিতে সেচ ব্যবস্থাপনার ব্যবসার

আধিপত্য বজায় রাখতেই প্রতিবাদী যুবক মোরশেদকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে-কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। আসামিদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন,

হত্যার আগে মারধর সহ্য করতে না পেরে আকুতি জানিয়ে মোরশেদ বলেছিলেন, ‘আমার খুব ক্লান্ত লাগছে, একটু পর ইফতার করব। ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখো, রোজা ভেঙে মরতে চাই।’

আসামিরা তাকে সেই সুযোগও দেয়নি। মোরশেদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচজনকে টেকনাফের এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। তারা হলেন-

কক্সবাজার পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত মনির আহমদ ফকিরের তিন ছেলে মাহমুদুল হক, নুরুল হক ও মোহাম্মদ আলী এবং মাহমুদুলের দুই ছেলে আব্দুল আজিজ ও আবদুল্লাহ।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ইউসুফ আরও জানান, মোরশেদ ছিলেন প্রতিবাদী যুবক। কৃষকদের জমিতে সেচ ব্যবস্থাপনার ব্যবসা নিয়ে মাহমুদুল হকের একক আধিপত্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদ করতেন তিনি। তাই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মাহমুদুল হক।

মোরশেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে অন্ডকোষে আঘাত করা হয়। ঘটনার দিন বাসা থেকে ইফতার সামগ্রী কিনতে বের হয়েছিলেন মোরশেদ। এ ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে গত ৯ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় মামলা তার ভাই জাহেদ আলী। ৭ এপ্রিল মোরশেদকে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, মোরশেদ হত্যার মুলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হক। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি। গত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। গভীর নলকূপ বসিয়ে তিনি ২৫-৩০ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকদের জমিতে সেচের ব্যবস্থা করে আসছিলেন। প্রায় ৪৮ একর জমিতে পানি দিতেন তিনি। পানি বিক্রির ব্যবসায় জড়িত থাকায় একপর্যায়ে অপরাধ সংঘটনের দিকে ঝুঁকে পড়েন মাহমুদুল। কৃষকদের জিম্মি করে তিনি টাকা-পয়সা আদায় করতে থাকেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন মোরশেদ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.