জোড়া খু’নের ঘটনায় পুলিশের সংবাদ সম্মেলন, রহস্য উৎঘাটন

জোড়া খু’নের ঘটনায় পুলিশের সংবাদ সম্মেলন, রহস্য উৎঘাটন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামে সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শ’ত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হা’মলায় সলেমান শরীফ (৪০) ও

কামরুল মাতুব্বর (৩২) নামের জোড়া খু’নের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভাঙ্গা থানায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যা রহস্য উৎঘাটনসহ মামলার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন,ভাঙ্গা থানাধীন তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামে কামরুল ও

জামাল মাতুব্বরের মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই শত্রুতা চলছিলো। এরজের ধরে গত ৭ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ওই এলাকার পোদ্দার বাজার নামক স্থান থেকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন বাড়ি ফিরছিলো। বাজার এলাকা পার হওয়ার পরে জনৈক

ফজলা মাতুব্বরের বাড়ির উত্তর পাশে ইটের রাস্তার উপর পূর্বে হতে ওঁৎ পেতে থাকা আসামী জামাল ও বালাসহ ১০-১৫ জন দূর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের হাতে থাকা রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, ছ্যানদা নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোলেমান শরিফ নিহত হন। গুরুতর আ’হত অবস্থায় অপর দুইজনকে

স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত কামরুল মাতুব্বরকে ফরিদপুর প্রেরণ করেন। অবস্থার অবনিত হলে রাতেই তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাত ৩টার দিকে তার মৃ’ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত কামরুলের ভাই রুবেল মাতুব্বর বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করলে মা’মলা রুজু করা হয়।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুমন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভ্থক্ত আসামী রুহুল আমিন(৬৫), মদ্দি মাতুব্বর ওরফে সেলিম ওরফে সিরাম (২৭) ও নুরু তালুকদারকে (৬১) আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। আসামী মদ্দি মাতুব্বর হেফাজত হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি রামদা উদ্ধার করা হয় এবং সে হত্যাকান্ডে নিজে ও অপর আসামীরা হ’ত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারামতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করছেন বলে জানান।

সংবাদ সন্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা, মা’মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমনসহ পুলিশের কর্মকতার্বৃন্দ। এক প্রশ্নের জবাবে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা বলেন, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি মোতায়েন করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.