বিএনপির দু’পক্ষের সংঘ’র্ষে আহত…

বিএনপির দু’পক্ষের সংঘ’র্ষে আহত…

রাজনীতি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আ’হত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে এইচ এস এস সড়কের জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘ’টনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে

শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। বিকেল ৩টার দিকে আবুল হোসেনকে সভাপতি ও হুমায়ন বাবরকে সাধারণ সম্পাদক করে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

একই সঙ্গে আবু তালেবকে সভাপতি এবং সেলিম রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে শৈলকুপা পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান গ্রু’পের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সামনা সামনি অবস্থান নেন। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জ’য়ন্ত কুমার কুন্ডুর সমর্থকরা ইট-পাটকেল ও লাঠি সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আমিন, জিল্লু ও আব্দুল করিমকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে তাদের ছ’ত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান দিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি সঠিকভাবে গঠন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলনের দাবি করা হচ্ছিল জেলা বিএনপি নেতাদের কাছে। কিন্তু তারা তা না করে আজ উপজেলা ও পৌর সম্মেলন আহ্বান করে। সেখানেও জেলা

বিএনপির সদস্য সচিব এম এ মজিদ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান এক পাক্ষিক কমিটি গঠন করেন। আমাদের কোনো কথা রাখা হয়নি। এমন অবস্থায় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে নিচে নেমে এলে আমাদের ওপর হামলা করে তাদের সমর্থকরা। সেখানে তাদের ইটের আঘাতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আ’হত হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, কোনো কমিটিই হয়নি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মজিদ সাহেবের বাসায় বসে নিজেদের ইচ্ছামতো কমিটি দিয়েছে আসাদ সাহেব ও মজিদ সাহেব। এখানে কারো কোনো কথা শোনা হয়নি, কোনো ভোটও হয়নি।

এ বিষয়ে বারবার ফোন দেওয়া হলেও লাইন কেটে দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম এ মজিদ জাগো নিউজকে বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে কোনো মা’রামারি হয়নি। সবার উপস্থিতিতেই ভোটের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে। সেখানে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বা জয়ন্ত কুমার কুন্ডু কারোর পক্ষেই পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.