ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সম্পর্কে যা জানা গেল

ছাত্রদল-ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সম্পর্কে যা জানা গেল

দেশের বৃহত্তম দুই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন যশোরের দুই কৃতি সন্তান। দুই বছর আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সন্তান লেখক ভট্টাচার্য।

রোববার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন কেশবপুর উপজেলার সন্তান রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। তাদের এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত যশোরবাসী।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ২ বছর মেয়াদি কমিটি গঠিত হয়েছিল।

২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের দুইজনকে পদ থেকে সরিয়ে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এরপর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাদেরকে ভারমুক্ত করা হয়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা লেখক ভট্টাচার্য।

তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগে (২০০৮-০৯ সেশনে) ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে তিনি এই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন। জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র লেখক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন যশোরের ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম (শ্রাবণ)। দেড় যুগ আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রওনাকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন শ্রাবণ। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে।

শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনি এখন দল থেকে বহিষ্কৃত। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক। আর ছোট ভাই আযাহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের। জাতীয়তাবাদী ছাত্ররাজনীতির মধ্যদিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে শ্রাবণ। তার সেই ভূমিকার যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শ্রাবণ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় যশোরবাসী হিসেবে গর্বিত ও আনন্দিত। কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ বলেন, কেশবপুরের সন্তান শ্রাবণ জাতীয় পর্যায়ে ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কেশবপুরবাসী গর্বিত। শ্রাবণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন সূর্যসন্তান।

আওয়ামী লীগের কেশবপুর শাখার সভাপতি মাস্টার রুহুল আমীন বলেন, শ্রাবণ কেশবপুরের সন্তান। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা সবাই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শ্রাবণ ছাত্রদলের জাতীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি দোষের কিছু দেখছেন না।

আওয়ামী লীগের কেশবপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান শ্রাবণ ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ায় তার পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনিও এটা স্বাভাবিকভাবে দেখেন।

গত রোববার ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে শ্রাবণের নাম জানার পর কেশবপুরের সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেশবপুরের রাজনীতি কোন দিকে যাবে।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published.