ডুবুডুবু অবস্থায় ধানের শীষ

ডুবুডুবু অবস্থায় ধানের শীষ

নিউজ ডেষ্ক- হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৩টি হাওরে কালনী ও মেঘনা নদীর পানি প্রবেশ করে প্রায় ৫০ হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অব্যাহত ভাবে পানি বাড়তে থাকলে

আরো প্রায় দুই থেকে তিনশ’ত হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় পাকা আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। জানা যায়,

উপজেলার ১ নম্বর লাখাই ইউনিয়নের হাওরের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা ও কালনী নদী। হাওর এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়ায় নেই কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ। ফলে গত দুইদিন ধরে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করছে।

এরই মধ্যে শিবপুর, সুজনপুর ও বারচর হাওরের ৫০ হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লাখাই উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২০০ হেক্টর।

এর মধ্যে শুধু লাখাই ইউনিয়নে হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর। কিছু জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান প্রায় ৬০ শতাংশ পেকেছে। তবে বেশিরভাগ জমির ধান অর্ধেকও পাকেনি। হাওরগুলোতে এখন ধানের শীষ ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, আমি মোট ১২ ক্ষের জমি করেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় ১০ ক্ষের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাকি দুই ক্ষের জমিও কাটতে পারব কি না জানি না।

কৃষক খুরর্শেদ আলী বলেন, আমি মাত্র ৮ ক্ষের জমি করেছিলাম। আমার সব জমির ধান এখন পানির নিচে। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে কি খাব তা চিন্তা করতে পারছি না। কৃষক আবু তাহের জানান, আমার ১৬ ক্ষের জমির মধ্যে ১৫ ক্ষের জমি ধানই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোন রকম বাকী ১ ক্ষের জমির ধান কাটার চেষ্টায় রয়েছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. শাকিল খন্দকার জানান, প্রায় ৫০ হেক্টর বোরো জমির ফসল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, হাওরের সঙ্গে নদী সরাসরি যুক্ত হওয়ায় পানি বেশি ঢুকছে। হাওরের কিছু ক্ষেতের ধান প্রায় ৬০ শতাংশ পেকেছে। অনেক স্থানে অর্ধেকও পাকেনি। তাই অব্যাহতভাবে পানি বাড়তে থাকলে আরো দুই থেকে তিনশত হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার জানান, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, লাখাই ইউনিয়নের বোরো জমিগুলো তুলনামূলক অনেক নিচু। আমি হাওরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। অনেক জমি তলিয়ে যায় যায় অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.