দোকান কর্মচারীদের হয়ে সংঘর্ষে জড়ানো তিন শিক্ষার্থী চিহ্নিত

দোকান কর্মচারীদের হয়ে সংঘর্ষে জড়ানো তিন শিক্ষার্থী চিহ্নিত

দুই দোকান কর্মচারীর ঝগড়ায় একজনের পক্ষ হয়ে ঢাকা কলেজের যে সব শিক্ষার্থী নিউমার্কেটে মারামারিতে জড়িয়েছিলো

তাদের তিনজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা মারামারি করতে গিয়ে এক পর্যায়ে নিজেরাই মার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে ছাত্রদের

মিথ্যা তথ্য দিয়ে খেপিয়ে তোলে। এ সময় হেলমেট পরা শিক্ষার্থীরাও ভাংচুর চালায়। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ফুটে উঠেছে এসব চিত্র।

সেই চিত্রে বড় চুলের ঝুটি বাঁধা একটি ছেলের নাম বাপ্পি। সে নিউমার্কেটের ওয়েলকাম ফাস্টফুড দোকানের কর্মচারী। সোমবার (১৮ এপ্রিল)

সন্ধ্যায় ইফতারির টেবিল সাজানো নিয়ে তার সাথেই পাশের ক্যাপিটাল ফাস্ট ফুডের কর্মচারী কাওসারের বিবাদ শুরু। যা এক পর্যায়ে প্রায় সহিংস হয়ে উঠছিলো।

পরে রাত সাড়ে এগারোটায় বাপ্পী ঢাকা কলেজ থেকে তার পরিচিতদের নিয়ে আসেন। যারা এসে ক্যাপিটালের কাওসার ও বাবু নামের দুই কর্মচারীকে মারতে শুরু করে। এক পর্যায় বাবুকে মাথায় সূচালো কিছু একটা দিয়ে আঘাত করা হয়। একই সময় প্রথমে ইট দিয়ে বাপ্পিকে ও পরে দোকানের চাপাতি এবং ছুরি দিয়ে পাল্টা হামলা চালায় ক্যাপিটালের কর্মচারীরা।

খালি গায়ে থাকা এক কর্মচারী ধারালো কিছু একটা দিয়ে বাপ্পির সমর্থকদের কোপ দেয়। এই মারামারিতে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা গেছে। এদের একজন নাসিম। তার গায়ে নিজের নাম লেখা জার্সি। আর একজন মাসুম, যিনি সবুজ রংয়ের টিশার্ট পরা। মেরুন রংয়ের শার্ট পরা যুবকের নাম লিটন। তিনজনই ঢাকা কলেজের ফরহাদ হলের ছাত্র। এই মারামারিতেই নাসিমের গায়ে কোপ লাগে। ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে তারা জানায় কেনাকাটা করতে যাবার পর নিউমার্কেটের দোকানিরা তাদের ওপর হামলা করেছে।

এই খবরেই দলে দলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে বের হয়ে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্সে ব্যাপক ভাংচুর শুরু করলে সংঘর্ষটি নিউমার্কেট বনাম ঢাকা কলেজে রূপ নেয়। যাদের কারণে এতো তুলকালাম সেই তিনজন নাসিম, মাসুদ ও লিটনের ফোন এখন বন্ধ। হলে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। ঢাকা কলেজে দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সংসদ ও ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। তাই এই অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে কোন ব্যবস্থাও নেয়া যায়নি। যা স্বীকার করেছেন এক ছাত্রলীগ নেতাও। বুধবার (২০ এপ্রিল) ছাত্রদের কর্মসূচি থাকলেও ছাত্রলীগ নেতাদের সক্রিয়তার কারণে কেউই সারাদিন রাস্তায় নামেনি। তবে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে মার্কেট খোলা হলে আবারও রাস্তায় নামার হুমকি দিয়েছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত বারোটার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুরু হয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ। যা চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুই পক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ব্যবসায়ীরা সড়কে চলে এলে দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ। সকাল সাড়ে ১০টার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.