অলরাউন্ডার ইমরান খান, গড়লেন নতুন রেকর্ড!


ক্রিকেটার হিসেবে বহু রেকর্ড গড়েছেন ইমরান খান। এবার রাজনীতিবিদ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। বুধবার রাতে টুইটারে এক লাইভ অনুষ্ঠানে রেকর্ড জনসমাবেশ ঘটিয়েছেন পাকিস্তানের সদ্যসাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমবারের মতো টুইটার স্পেসে অংশ নিয়ে তিনি মাইক্রোব্লগিং সাইটটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ইউজারকে একত্রিত করেছেন, যা টুইটারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর পেশোয়ার ও করাচিতে দুটি

জনসভায় রেকর্ড জনসমাগমের পর অনলাইনেও এমন আকর্ষণ- এ যেন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। টুইটার অ্যানালিটিক্সের তথ্যে জানা যায়, বুধবার পাকিস্তান সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ইমরান খানের ঘণ্টাব্যাপী টুইটার স্পেসে

৫ লাখ ৩৫ হাজার শ্রোতা জড়ো হয়। এর মধ্যে একপর্যায়ে ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি লোক ইমরান খানের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। মোট অংশগ্রহণকারী (টোটাল পার্টিসিপেন্ট) ও একযোগে শ্রোতা (কনকারেন্ট লিসেনার) দুই বিচারেই

এটা টুইটারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এর আগে টুইটার স্পেসে সর্বোচ্চ সমাগমের রেকর্ড গড়েছিল কে-পপ এর একটি লিরিক্যাল স্পেস। সেবারে সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার ইউজার অংশগ্রহণ করেছিল।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) টুইটারে এ স্পেসের আয়োজন করে। রেকর্ড সমাগমের কথা মাথায় রেখে তারা আগেই টুইটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যাতে ইউজারের চাপে স্পেস ক্র্যাশ করলে একটি ব্যাক-আপ রাখা যায়।

পিটিআই সোশ্যাল মিডিয়া টিমের নেতা ডক্টর আরসালান খালিদ জানান, টুইটার স্পেসের পূর্ববর্তী রেকর্ডের কথা মাথায় রেখে তারা ভেবেছিলেন, ৫০ থেকে ৫৫ হাজার অংশগ্রহণকারী এলেই নিজেদের আয়োজন সফল বিবেচনা করবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ইমরান খানের অংশগ্রহণের আগেই স্পেসে ৫২ হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়। এরপর ইমরান খান যোগদানের কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। এক ঘণ্টার সামান্য বেশি সময় ধরে চলা স্পেসে পাকিস্তানসহ সারাবিশ্ব থেকে ইউজাররা অংশ নেন। ইমরান খান তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর দিন কেমন কাটছে, লন্ডন থেকে এক- শ্রোতার এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, আমি ১৮ বছর বয়সে পাকিস্তান ক্রিকেট দলে যোগদানের পর থেকে জীবনে অসংখ্য উত্থান-পতন দেখেছি। দীর্ঘদিনের চর্চায় আমি নিজেকে যেকোনো পরিবর্তনে অভ্যস্ত হতে শিখিয়েছি।

ইমরান খানের জীবনের প্রতি হুমকি রয়েছে বলে লাহোরের কমিশনার জানিয়েছেন। এরপরও ওই শহরে জনসভা করবেন কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে পিটিআই চেয়ারম্যান বলেন, লাহোরের মিনার-এ-পাকিস্তান আমাদের সমাবেশের ভেন্যু। ১৯৪০ সালে ওই একই স্থান থেকে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাকিস্তানের জন্মমুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্থানটিতে আমাদের সমাবেশ হবে। জীবন-মরণ আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন। আমার সময় এসে গেলে ঘরে থাকলেও মৃত্যু এড়াতে পারব না। কাজেই সমাবেশে আমার না যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পৃথক এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের পক্ষে লেখে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দুর্নীতিবাজদের পকেটে চলে গেছে। এ কারণে আমি মূলধারার পরিবর্তে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের অধিকতর পক্ষপাতী।

ইমরান খানের প্রথম টুইটার স্পেসে পাকিস্তানিরা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ইমরান খানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) মরিয়ম নওয়াজ শরীফ ও পিপিপির মনসুর আলী খান এ স্পেসে অংশ নেন বলে একটি স্ক্রিনশট করে টুইট করেছেন পাকিস্তানের সামা টিভির প্রতিবেদক সুমেরা খান। এছাড়া আরও যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নমল রাজাপাকসে, ভারতের কট্টর পাকিস্তানবিরোধী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সোনাম মহাজন, সাংবাদিক সদানন্দ ধুমে, আদিত্য রাজ কাউল ছাড়াও ছিলেন কুয়েত, ঘানাসহ বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ছিল নিউজউইকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, কিংবদন্তী ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, মুশতাক আহমদ প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.