দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে শবনম, জানালেন আড়ালে থাকার কারণ


মিডিয়া: ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্র। সে সময় নামভূমিকায় অভিনয় করে পর্দায় এসেছিলেন উপমহাদেশ বিখ্যাত অভিনেত্রী শবনম।

এরপর আর কোনও বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করেননি। আসেননি সাংবাদিকদের সামনে। নিভৃতজীবন কাটানো এই অভিনেত্রীকেও কোনও আয়োজনে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। অতঃপর তাকে পাওয়া গেল।

গতকাল (২২ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের একটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ইফতার মাহফিল। প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আহ্বানে এমন কোনও আয়োজনে অংশ নিতে দেখা গেছে শবনমকে।

সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের আমন্ত্রণে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। ইফতার আয়োজনে চমক হিসেবে ছিলেন অভিনেতা মাহমুদ কলিও। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরেন শবনম। এক লিখিত বক্তব্যে জীবন্ত এ কিংবদন্তি বলেন, ‘আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে আপনাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি তাতে আমি কৃতজ্ঞ। জীবনে অনেক অপ্রাপ্তি থাকলেও বহুদিন পর সিনেমার মানুষের কাছে এসে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে চিরঋণী হয়ে থাকবো। প্রায় দুই যুগ সিনেমার বাইরে, তারপরও আপনারা আমাকে মনে রেখেছেন, এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি।’

চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আম্মাজান’ করার পর উপযুক্ত চরিত্রের অভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইনি। ইচ্ছে থাকলেও একই সঙ্গে মনের মতো চিত্রনাট্য ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর কাজ করা হয়নি।’’ গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসময় গুণী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, চলচ্চিত্রের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরুন। আমাদের ভুল শুধরে দিন।’

‘নাচের পুতুল’খ্যাত এই মহাতারকা পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। ৬০ থেকে ৮০’র দশক পর্যন্ত একাধারে সক্রিয় অভিনয় চর্চা করে গেছেন ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী শবনম। এদিকে, এদিন ইফতারে আরও অংশ নেন চিত্রনায়ক আলমগীর, রিয়াজ, ফেরদৌস, বাপ্পারাজ, অমিত হাসান, অনন্ত জলিল, বর্ষা, নিপুণ, কেয়া, সাইমন, নিরব, ইমনসহ অনেকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.