বিএনপি নেতা আ.লীগের সভাপতি

বিএনপি নেতা আ.লীগের সভাপতি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

তবে সভাপতি হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে বিতর্কের রোষানল থেকে বাঁচতে কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কমিটি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, শুক্রবার পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পূর্ব ঘোষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র মুজিবুর রহমান,

চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

যথারীতি কাউন্সিলরদের ভোটে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী সভাপতি ও বেলাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু এরপরই আসাদুজ্জামান চৌধুরীর দলীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী খানে আলম বলেন, আসাদুজ্জামান চৌধুরী পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরও ছিলেন না। কিন্তু চকরিয়া আওয়ামী লীগের ‘বড়’ এক নেতার আশীর্বাদে তিনি সম্মেলনে শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সম্মেলনে দলীয় স্লোগান দিতে বলা হলে আসাদুজ্জামান চৌধুরী ব্যর্থ হন। বরং তিনি দলীয় স্লোগান বিকৃত করেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা সোচ্চার হলে এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ এ কমিটি বাতিলের ঘোষণা দেন। দলের ঐতিহ্য রক্ষায় জেলা আওয়ামী লীগের তড়িৎ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

এদিকে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত মো.আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি কখনো বিএনপি করি নাই। মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। তবে কখনো আওয়ামী লীগের দায়িত্বেও ছিলাম না। কিন্তু লেখাপড়া অবস্থায় চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। এটি সকলেই জানে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু ধান্দাবাজ আমার উত্থান সহ্য করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা তা লিখছে। কারণ তারা নানাভাবে দলীয় বিপদগ্রস্ত সাধারণ কর্মী থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত ধান্দাবাজি করে। যেটি আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আছে ওই কমিটিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যা খুবই দুঃখজনক। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে জেলা আওয়ামী লীগ বিতর্কিত এ কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.