ভ্যানচালককে বেত্রাঘাতের অভিযোগ, যা বললেন মেয়র আরিফ

ভ্যানচালককে বেত্রাঘাতের অভিযোগ, যা বললেন মেয়র আরিফ

সংবাদ- ভ্যান চালককে বেত দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে সিলেট সিটি মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তবে মেয়র আরিফ বলেন,

‘আমি কেবল লাঠি দিয়ে তাকে ভয় দেখিয়েছি। এটা নিয়ে এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে সিলেট নগরীর চৌহাট্টার দিকে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন মেয়র আরিফ।

এ সময় সড়কের পাশে একটি ভ্যান দাঁড় করানো দেখতে পেয়ে চালককে ডেকে নিয়ে গাড়িতে বসেই বেত দিয়ে তাকে আঘাত করেন। পরে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

রুবেল আহমদ নামের ওই যুবক ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ভ্যান চালান বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে ভ্যান নিয়ে তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিক্রয় প্রতিনিধি ধ্রুব ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি পাশেই ছিলাম। মেয়র চালককে মারছেন দেখে দৌঁড়ে আসি। মেয়র কাজটি ঠিক করেননি।’ পুলিশ ও আইনজীবীরা বলছেন, দেশে ১৯০৯ সালের বেত্রাঘাতের বিধানে কাউকে

বেত্রাঘাত করতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এর বাইরে পুলিশ আইনে প্রয়োজনে লাঠিপেটার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কাউকে বেত্রাঘাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। গত বছর নগরের চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করে সিলেট সিটি করপোরেশন।

এরপর এই সড়ক দিয়ে রিকশা-ভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করে সিসিক। অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাতে হকার বসা নিষেধ লিখে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সড়কের ফুটপাত দখল করে আছে হকাররা। সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয় গাড়িও। ফলে সড়কজুড়ে যানজট লেগে থাকে। ঘটনার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সিলেট জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি সপ্ত দাস। তিনি মেয়রের বেত্রাঘাতের একটি ছবি ফেসবুকে দেন। এরপর এনিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সপ্ত দাস ফেসবুকে লেখেন- ‘একজন সিগারেট কোম্পানির কর্মচারী ভ্যান রেখে ডেলিভারি দিতে গেছে পাশের দোকানে। সেই সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো মেয়রের গাড়ি, তাকে দেখে চালক ভ্যান সরিয়ে নিতে গেলে, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাকে হাত পাততে বলেন এবং ওনার হাতে থাকা বেত দিয়ে দুটো বাড়ি দেন। কিন্তু একটু সামনেই রাস্তার পাশে একটি প্রাইভেটকার পার্ক করা ছিলো কিন্তু কবি সেখানে নীরব। এই শহরের অনেক রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের পিঠ খুঁজলে মেয়র আরিফের বেতের আঘাতের অনেক দাগ খুঁজে পাওয়া যাবে।’

চৌহাট্টা এলাকার এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফুটপাতে বসার কারণে মেয়র প্রায়ই লাঠি দিয়ে আমাদের তাড়া করেন। হাতের কাছে পেলে মারেনও। শুধু মেয়র নয়, সিটি করপোরেশন কর্মচারীরাও অভিযানের নামে গায়ে হাত তোলেন। ১৯০৯ সালের একটি আইনে বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে জানিয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, এই আইনে কাউকে বেত্রাঘাত করতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে দেশে এই আইনের প্রয়োগ নেই। এর বাইরে পুলিশ আইনে প্রয়োজনে লাঠিপেটার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কাউকে বেত্রাঘাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ইঞ্জিনচালিত যানকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ইঞ্জিনবিহীন যানের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। কমিশনারের নির্দেশে আমরা এসব যানকে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ন্যুনতম জরিমানা করে থাকি। তবে কাউকে মারধরের কোনো আইন নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published.