কী নিয়ে আন্দোলন করা যাবে, তার তালিকা দিয়ে দেওয়া হোক

কী নিয়ে আন্দোলন করা যাবে, তার তালিকা দিয়ে দেওয়া হোক

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।

তাঁরা বলেছেন, মাঠ রক্ষায় সৈয়দা রত্মা ও তার সন্তানকে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখার মাধ্যমে আন্দোলনকর্মী ও একালাকাবাসীকে ভয় দেখানো হয়েছে। মাঠ রক্ষায় আইন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই সঙ্গে মা-ছেলেকে আটক ও হয়রনির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তিও দাবি করেন তাঁরা। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘তেঁতুলতলা মাঠে থানা না, এলাকাবাসীকে হয়রানি ও আটকের তীব্র প্রতিবাদ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে অধিকারকর্মীরা এ কথা বলেন।

এএলআরডি, বাপা, বেলা, আসক, ব্লাস্ট, গ্রিন ভয়েস, নিজেরা করি, নাগরিক উদ্যোগ, নারীপক্ষ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি ও টিআইবি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক ছিল।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, তেঁতুলতলা মাঠটি উন্মুক্ত স্থান ও মাঠ হিসেবে রাখতে হবে।

মাঠে থানা ভবন বা অন্য কোনো স্থাপন করা যাবে না। মাঠটি রক্ষায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও রাজউককে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। পাশাপাশি সৈয়দা রত্না, তাঁর পরিবার এবং আন্দোলনে যুক্ত এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইকবাল হাবিব দাবি করেন, এ ঘটনায় ১০টি আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। মা-ছেলেকে আটক রেখে হয়রানির ঘটনায় কোনো ধরনের আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এতে সংবিধান ও আইনের ন্যাক্কারজনক লঙ্ঘন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একনেকের সভায় মাঠ সংরক্ষণের কথা বললেও সে নির্দেশ মানা হচ্ছে না।
তেঁতুলতলা মাঠ থেকে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া সরানোর দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গতকাল দিনভর কলাবাগান থানা কর্মকর্তাদের মুঠোফোন বন্ধ ছিল। তাঁদের থানা গিয়েও পাওয়া যায়নি। অধিকারকর্মীদের থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মধ্যরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও তিনি বললেন, আটকের বিষয়টি জানতেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বেলার নির্বাহী সভাপতি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অভিযোগ ছাড়া নাগরিককে তুলে নেওয়ার ঘটনা আবার শুরু হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিযোগ ছাড়া এক নারীকে তুলে নেওয়া হলো। মাঠ রক্ষার আন্দোলন করা যাবে না মুচলেকা নিয়ে সৈয়দা রত্মা ও তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে কী নিয়ে আন্দোলন করা যাবে, তার একটা তালিকা দিয়ে দেওয়া হোক।

মুচলেকা দিয়ে মুক্ত, হয়রানি ও মাঠ রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে আইনি সহায়তা নিতে গেলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশকে পরিবেশ রক্ষার বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে মুচলেকা দিয়ে নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, বসবাসের অযোগ্যের তালিকায় থাকা শহরে একটা খেলার মাঠ নিয়ে নেওয়া মানে আত্মহত্যার শামিল। এলাকাবাসী খেলবে কোথায়, এই জবাব কি কর্তৃপক্ষ দেবে? এ সব নিয়ে কথা বলায় ১৩ ঘণ্টা দুইজনকে আটকে রাখা হলো। এটি পরিকল্পিত। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারী ও এলাকাবাসীকে ভয় দেখানো হয়েছে।

নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, যারা মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন তারাই আইনি সহায়তা পাবেন। এই দেশে কি সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নাই? আইন কি নিজের মতো চলে না?

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান লিটন, ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিমসহ প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.