নগর ভবনের কর্মচারীকে মারধর, কাউন্সিলরসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নগর ভবনের কর্মচারীকে মারধর, কাউন্সিলরসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অন্যান্য: সড়ক পরিদর্শককে মা’রধরের অভিযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লবসহ দুইজনের নামে মা’মলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কাউন্সিলরের পাল্টাপাল্টি সড়ক অবরোধের পর রোববার (২৪ এপ্রিল) মাঝরাতে মা’মলাটি করেন সড়ক পরিদর্শক রাজীব হোসেন খান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব ও কলেজ শিক্ষক মো. কামরুজ্জামানের নাম

উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানিয়েছেন,

মা’মলার বাদী তার কর্তব্য পালনে বাধা, আটকে রেখে মারধর ও ভ’য়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। সড়ক পরিদর্শক রাজীব হোসেন খান বলেন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুজ্জামান ভবন নির্মাণ করছেন। সিটি করপোরেশন থেকে প্ল্যান পাস করে ভবন

নির্মাণ হচ্ছে কি না তা দেখতে সেখানে গিয়েছিলাম। এ সময় নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেছি। ভবন মালিক বিষয়টি ভিন্নভাবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লবের কাছে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব ফোন দিয়ে আমাকে ডেকে নেন।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের হোসাইনিয়া মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে কাউন্সিলর বিপ্লব ও মো. কামরুজ্জামানসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন। এ ঘটনা জানতে পেরে করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে করপোরেশনের কর্মচারীরা রাতে কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান।

২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব বলেন, কলেজ শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান ভবন নির্মাণ করছেন। ওই বাসিন্দা প্ল্যান মতো সব কাজ করছেন। এরপরও মো. রাজীব হোসেন খান সেখানে গিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করতেন। গত ২১ মার্চ সিটি করপোরেশনের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে একদল যুবক কলেজ শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বিষয়টি জানার পর রাজীব হোসেনকে ডেকে কলেজ শিক্ষককে হয়রানি বন্ধের অনুরোধ করেছি। কিন্তু রাজীব হোসেন খানকে দিয়ে একটি মহল ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচার শুরু করে।

আমাকে হেনস্তা করতে তারা করপোরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করান। এসব কর্মকাণ্ড দেখে আমার ওয়ার্ডের শতশত বাসিন্দা পথে নেমে আসে। তারা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পরে প্রশাসনের অনুরোধে সন্ধ্যায় মহাসড়ক ছেড়ে সমর্থকদের নিয়ে চলে যাই। প্রসঙ্গত, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী। কিছুদিন পূর্বে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীরের সেঙ্গে কাউন্সিলর বিপ্লবের মুঠোফোনে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে সমালোচনা করার একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.