আ. লীগে দৌড়ঝাঁপ, আছেন বিএনপি নেতারাও

আ. লীগে দৌড়ঝাঁপ, আছেন বিএনপি নেতারাও

কুমিল্লা নগরীতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের

(কুসিক) প্রথম এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর অফিস-আদালত, অলিগলিতে এখন আলোচনা চলছে—কে পাচ্ছেন কোন দলের মনোনয়ন।

নতুন (ইসি) গঠনের পর গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের সম্মেলনকক্ষে আউয়াল কমিশনের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানান,

আগামী ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে কুসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৭ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। আর প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার খবরে নগরীজুড়ে আলোচনা চলছে কুসিক নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন। আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু,

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের মেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পি, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার, প্রয়াত আফজল খানের ছেলে কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, সাবেক ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর মমিন ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব কাজী ফারুক আহাম্মেদ প্রমুখ।

একক নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে মহানগর আ. লীগ, মাঠে আরো ছয়জন কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নগরীর রামঘাট দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপির সভাপতিত্বে দলের বর্ধিত সভা হয়।

বর্তমানে মাঠ চষে বেড়ানো অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, আওয়ামী লীগ নেতা কবিরুল ইসলাম শিকদার ও সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ফারুক আহাম্মেদ।

নাগরিক সমাজের ব্যানারে নির্বাচন করবেন বিএনপির প্রার্থীরা: বিএনপির শীর্ষ নেতারা দলীয়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবেন না। তবে অনেকে ঘোষণা দিয়েছেন দল যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে নাগরিক সমাজের ব্যানারে নির্বাচন করবেন তাঁরা। নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি বিএনপি করলেও দুইবারের মেয়র, আমারও কিছু ফলোয়ার আছে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও জনগণ যদি আমাকে চায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেব। ’নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী বিএনপির অন্য নেতাদের মধ্যে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার রয়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.