১৩ দিনেও খোঁজ নেই নাইমের


মিরপুরের বসতি হাউজিংয়ের পাশের একটি মসজিদে গত ১৫ই এপ্রিল আসরের নামাজ পড়তে যান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাইম খান। কথা ছিল বাসায় ফিরে ইফতার করবেন।

কিন্তু নামাজ শেষে মসজিদের সামনে থেকে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা মুসল্লি এবং নাইমের এক সহকর্মী বাধা দিলে তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দেয়। এরপর ১৩ দিন পার হলেও আর কোনো সন্ধান মেলেনি নাইমের।

এদিকে নাইমের নিখোঁজের ঘটনায় দিশাহারা তার পরিবার। ডিবি, সিআইডি, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করলেও তাকে তুলে নেয়ার বিষয়

সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন নাইমের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

ডায়েরিতে বলা হয়, গত ১৫ই এপ্রিল বিকাল আনুমানিক পৌনে ৬টায় নাইম খান মিরপুরের ৮ নম্বর রোডের ১১-বসতি হাউজিং বড়বাগের বাসা থেকে বের হয়ে স্থানীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ পড়তে যান।

এরপর আর তিনি বাসায় ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

নিখোঁজ নাইমের ভাতিজা আবিদ বলেন, তার সঙ্গে পারিবারিক বা ব্যক্তিগতভাবে কারো কোনো শত্রুতা নেই। এছাড়া তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

এর আগে তিনি গুলশানের রেডিয়েন্ট করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাদের এই কোম্পানি মূলত টেলিকমিউনিকেশন সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে।

বিভিন্ন বাহিনীতে কোম্পানিটি এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করে। দীর্ঘ ২৪ বছর চাকরি করার পর করোনাকালে বেতন কমানোয় তিনি চাকরি ছেড়ে গত জানুয়ারি মাসে স্টেট গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজিএম হিসেবে চাকরি নেন।

চাকরি ছাড়ার কারণে পুরাতন প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলের সঙ্গে তার কিছু ঝামেলা চলছিল। তিনি বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয় সিসিটিভি ভিডিও ক্যামেরা নষ্ট থাকলেও আশেপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রাহী মানবজমিনকে বলেন, তিনি গুলশানের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৪ বছর চাকরি করেছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। আশেপাশের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে থাকা গাড়ির নম্বর মিলছে না। গাড়ির ব্যবহৃত নম্বরটি ভুয়া হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্তে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাকে যদি অপরহণ করা হয় সে ক্ষেত্রে অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করবে। সেটাও করেনি। এখন পর্যন্ত কেউ ফোন দেয়নি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার খবর পাওয়া যায়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.