আইভীর মুকুটে ‘নতুন পালক’

আইভীর মুকুটে ‘নতুন পালক’

রাজনীতি: দেওভোগ বলয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে সুবাতাস। চাষাঢ়া বলয়ে প্রবাহিত হচ্ছে লু হাওয়া। দুই বলয়ের মধ্যে এই বৈপরিত্বের কারণ ভাবিয়ে তুলছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের।

দেওভোগ বলয়ের নেতৃত্বে থাকা নাসিক মেয়র ডাঃ আইভীর বিজয় মুকুটে আরো একটি নতুন পালক যোগ হল। আবারো জয়ী হলেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুজী।

যিনি মেয়রের ‘কাকা’। মেয়রের কাকা খ্যাত আনোয়ার হোসেন আবারো জেলা পরিষদে বহাল থাকলেন। আপাতত প্রশাসক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। এই খুশির খবরে দেওভোগ বলয়ের নেতাকর্মীরা বেশ উৎফুল্ল।

অথচ চাষাড়া বলয়ে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। নেতাকর্মীরা হতাশা ও নিরাশায় নিমজ্জিত। ভাল কোন খবর নেই। কোন উদ্যোগ নেই। আছে শুধু হিংসা হানাহানির তত্ত্ব।

জেলা পরিষদের চেয়ারের দিকে চাষাঢ়া বলয়ের অনেকের নজর ছিল। কিন্তু তা আর হবার নয়। সেই আশায় গুঁড়েবালি ! বাবু চন্দনশীল, খোকন সাহা ও ভিপি বাদলের আশার সমাধি ঘটলো।

গুরুজীর গুড পারফরমেন্সের কাছে সবাই কেমন খড়কূটোর মত উড়ে গেলেন। অনেক প্রবীণ নেতা বলেছেন, নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কর্মগুণে হাতে পরশ পাথর পেয়েছেন। অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আজকে যারা মেয়রের নিজস্ব কিংবা কাছের বা বিশ্বস্ত লোক হিসেবে পরিচিত-তারা কেহই একদিনে মেয়রের কাছে ঘেঁেষননি। দীর্ঘদিন তাঁর কর্মপন্থা ও নীতি নৈতিকতা এবং বিচক্ষণতা দেখে এবং অভিজ্ঞতার কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে তবেই আপন হয়েছেন।

মেয়র আইভীর তরফেও তাই ছিল। তিনিও হুট করে কাউকে তুলে নেন না। আবার ছুঁড়ে ফেলে দেন না। কাজ পাগল মানুষকে তিনি ভালবাসেন। গুরুজী আনোয়ার হোসেন মাঝখানে ছিলেন দু’বলয়মুখি। পরে শিষ্যদের কৃতকর্মের কারণে এবং ঝরঝরে ভবিষ্যৎ দেখে আবারো প্রিয় ভাতিজি ডাঃ আইভীর সাথেই কাজ শুরু করেন। ডা. আইভী প্রিয় কাকাকে অনেক শ্রদ্ধা করেন। তাঁর মর্যাদা রক্ষায় তিনি অনেক কিছুই করেছেন। এখনো করছেন। এবারো ওসমান পরিবার চেষ্টা করেছিল জেলা পরিষদে নিজেদের লোক বসানোর। শেষ পর্যন্ত তা হলো না। উন্নয়ন পাগল মেয়র ডা. আইভী কামনা করেছিলেন কাকা’কেই জেলা পরিষদে বহাল হোক। আল্লাহর অশেষ রহমতে তাই হয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ইফতার আগ মুহূর্তে বলার এমন কিছু নেই। আজকের যে আয়োজন করে তার প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা, সকল ছাত্র নেতাদের দাওয়াত করে। আজকে উপস্থিত আছেন সাবেক চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের কিন্তু বর্তমানে আজকেই জেলা পরিষদের প্রশাসক হয়ে আসছেন। গত ৩দিন আগে বলে ছিলাম, আমাদের আনোয়ার কাকা যেন হয়ে আসে। আল্লাহ আমাদের ডাক কবুল করেছেন, মহান আল্লাহ কাছে দোয়া করবো, তিনি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

বুধবার ২৭ এপ্রিল পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাতের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ছিলেন। জানাগেছে, ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশিত হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর আনোয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে ও আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অভিনন্দন ও দোয়া করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। এ সময় আনোয়ার হোসেনকে গতবারের মত আগামীতে যে কোন প্রয়োজনে পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সূত্রমতে, গত ২৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আনোয়ার কাকা পাঁচ বছর জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা সত্যি যে তিনি অনেক কাজ করেছেন। শুধু শহরে নয় তিনি শহরের বাইরেও কাজ করেছেন। শুধু দুয়েক’টা থানাতে কাজ একটু বেশি হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনি (আনোয়ার হোসেন) অনেক অনুদান দিয়েছেন। এজন্য তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি মনে করি ভবিষ্যতেও তিনিই আমাদের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে আসবেন। নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা থাকবেই। আমরা অনেকেই হতে চাইব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই দিবেন। আমি মনে করি তিনি যেহেতু ছিলেন তার অগ্রাধিকার রয়েছে। এর আগে ২৩ জানুয়ারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেব তাঁর ৫ বছর পূর্ণ হয়। সফলতার সঙ্গে কাজ শেষ করতে পেরে তিনি বেশ তৃপ্ত।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। মহানগর আওয়ামীলীগের বেশীরভাগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি তিনি। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে। তিনি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির সুখবরটি। দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের মুঠোফোনের মাধ্যমে তাকে এই সুখবরটি দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানদের জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ২৭ এপ্রিল বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এতথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্ত করা হয়। সেদিন থেকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে ১৭ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ


Leave a Reply

Your email address will not be published.