প্রেমের সম্পর্কে ধ’র্ষণ, পরে বিয়ের দাবিতে অনশন! অতঃপর…

প্রেমের সম্পর্কে ধ’র্ষণ, পরে বিয়ের দাবিতে অনশন! অতঃপর…

অপরাধ: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক তরুণী (২১) আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের একটি গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপতালে পাঠিয়েছে মদন থানার পুলিশ। মা’মলা তুলে নিতে হু’মকি এবং অ’শ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হবে-

এমন ভয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি ওই তরুণীর স্বজনদের। পুলিশ ও ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের রুমেলের (২৫) সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা হয় ওই তরুণীর।

তখন থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযোগ ওঠে, বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধ’র্ষণ করেন রুমেল। ২০২০ সালের ২ আগস্ট অভিযুক্ত ওই তরুণীকে অপহরণ করে ফের ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়।

এসব ঘটনার পর বিয়ের দাবিতে ৩ আগস্ট অভিযুক্তের বাড়িতে বিষ হাতে অনশনে বসেন তরুণী। পরিবারের লোকজন বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যান রুমেল। ২০২০ সালের ৭ আগস্ট তরুণীর ভাই বাদী হয়ে আদালতে একটি ধ’র্ষণ মা’মলা দায়ের করেন। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে

আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন ওই তরুণী। জবানবন্দিতে তিনজনের নাম উল্লেখ করলেও পুলিশ রুমেলকে আ’সামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেয় বাদীপক্ষ। বর্তমানে মা’মলাটি আদালতে বিচারাধীন।

তরুণীর ভাই বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ঈদের কেনাকাটা করতে পৌর সদরের মার্কেটে যাই। আসামি রুমেলের বড় ভাই রাসেল মদন পৌর সদরের মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করেন। রাসেল আমাদের মার্কেটে পেয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। মামলা তুলে না নিলে আসামির মোবাইল ফোনে ধারণ করা আমার বোনের অশ্লীল ভিডিও নেটে ভাইরাল করে দেবে বলে জানায়। এসব সহ্য করতে না পেরে আমার বোন আ’ত্মহ’ত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে রাসেল মুঠোফোনে বলেন, ‘ঈদের সময় আমি দোকান নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তারা গতকাল মার্কেটে এসেছিল কি না তা আমার জানা নেই। মা’মলা তুলে নিতে তাদেরকে কোনো রকম হুমকি দেওয়া হয়নি।’ মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। নি’হতের পরিবারের লোকজন যদি কারো বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.