সিলেটে বিএনপি নেতা এমদাদ কেন আক্রান্ত?

সিলেটে বিএনপি নেতা এমদাদ কেন আক্রান্ত?

সিলেট মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। সিলেটের রাজনীতিতে ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত। করোনাকালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ওই সময় চোখে পড়ার মতো কাজ করেছেন তিনি। করোনা আক্রান্ত নেতাকর্মীদের পাশাপাশি থাকা, খাবার সামগ্রী পৌঁছে দেয়াসহ নানা কাজে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।

এ ছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও করোনাকালে তিনি মানুষের কাছাকাছি ছিলেন। সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক হওয়ার কারণে করোনার সময় মানুষকে সেবা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে খাবার ও ওষুধসামগ্রী নিয়ে গেছেন। দলের দুর্দিনের কাণ্ডারি এই নেতা এবার নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন। নিজ দলের কর্মীদের হাতে তিনি নাজেহালও হন

দল এবং অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী এমদাদ হোসেন চৌধুরীর ওপর নগরীর ভাতালিয়া এলাকায় চালায় এ হামলা। অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক দলের ওপরও। তবে- হামলায় আক্রান্ত হওয়ার পর এমদাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবাই।

বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির থেকে শুরু করে সব নেতারা এমদাদের পাশে দাঁড়ান। এমদাদকে দেখতে বাসায় ছুটে যাওয়া নেতারা ঘটনার জন্য নিন্দা জানান। গতকাল নগরীর আমানউল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে ছিল সিলেট মহানগর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল। এই মাহফিলে অতিথি নিয়ে নেতাদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই হয়। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ হয়নি। এই ঘটনার জের ধরে এমদাদ হোসেন চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। কিন্তু বিএনপি নেতা এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন- ইফতার মাহফিলের ঘটনা সত্য কিনা জানি না।

তবে- বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অঙ্গ সংগঠনের কিছু কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ওরা তাকে নাজেহাল করেছে। তবে- ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি সিনিয়র নেতারা দেখছেন বলে জানান তিনি। দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- এমদাদ হোসেন চৌধুরীর বাড়ি নগরীর চৌকিদেখি এলাকায়। এ কারণে এবার মহানগর বিএনপি’র তরফ থেকে তাকে প্রধান করে নগরীর ৭-৮-৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে তার টিমে রাখা হয়। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কারণে মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে এমদাদের রয়েছে পরিচিতি।

নেতারা জানান- দায়িত্বপ্রাপ্তির পর এমদাদ হোসেন চৌধুরী তিনটি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দলের ত্যাগী পরীক্ষিতদের অগ্রাধিকার দিয়ে আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেটি অুনমোদনের জন্য পাঠানো হয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে। কিন্তু কমিটি প্রেরণের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার আগে অদৃশ্যবলে পরিবর্তন করা হয় তিনটি আহ্বায়ক কমিটির কয়েকটি নাম। অনেককে বাদ দিয়ে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে করে সাংগঠনিক টিমের প্রধানের ওপর ক্ষুব্ধ হন কিছু কিছু নেতাকর্মী। এর জের ধরে বুধবার রাতে সজীব, উসমান গনি, রাসেলসহ কয়েকজন হামলা চালায় এমদাদ হোসেন চৌধুরীর ওপর। হামলাকালে তারা এমদাদ হোসেন চৌধুরীর ওপর ডিম ছুড়ে মারে। এরপরও তাকে মারধর করা হয়। মারধরে কিছুটা আহতও হয়েছেন এমদাদ চৌধুরী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাতেই এমদাদ হোসেন চৌধুরীর বাসায় ছুটে যান সিলেটে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তারা গিয়ে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে সান্ত্বনা দেন। এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। আক্রান্তকালে আহত হওয়ায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘তিনটি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে। এরপর পরিবর্তন হলেও তিনি সেটা জানেন না। দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হচ্ছেন সিদ্ধান্তের মালিক।’ তিনি বলেন- ‘রাজনীতি করছি হামলা হতে পারে। কিন্তু নিজ দলের কর্মীরা এভাবে অতর্কিত হামলা চালাবে ভাবিনি। এটা রাজনীতির শিষ্টাচার বিবর্জিত কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.