‘দাওয়াত’ দিতে এসে বাংলাদেশকে কী বার্তা দিলেন জয়াশঙ্কর? বিস্তারিত


প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতীম দু’টি দেশ বাংলাদেশ ও ভারত। এই দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে গত ৫০ বছরে। তিস্তার পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যার মতো

ঢাকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দিল্লির পক্ষ থেকে কেবলই আশ্বাস মিলেছে বারবার, অধরাই রয়েছে বাস্তবায়নের বিষয়টি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছরের ওই সফরে ঢাকায় এসে আরেক দফা আশ্বাস দিয়ে যান তিনি।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর একদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। ভারতীয় এই শীর্ষ কূটনীতিকের সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে

বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। একইভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমিনের সঙ্গেও মিলিত হন তিনি।

এসব বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি ঝানু কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত এস. জয়শঙ্কর। তিনি শুধু বলেছেন, এদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। সুবিধাজনক সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যর দিল্লি সফরের জন্য অপেক্ষায় আছেন তারা।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিবিড় করতেই জয়শঙ্করের এই সফর বলে জানানো হয়েছে। এমন প্রেক্ষপটে ভিন্ন রকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। এতে তিস্তার পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর ওপর গুরুত্বাপোর করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বার্থের এসব বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত? এমন জিজ্ঞাসা রেখে খবরে বলা হয়, দশকের বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে। দীর্ঘদিনেও এটির সমাধান না হওয়ায় ঢাকার রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী নির্বাচনের আগের বছরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফরে ইস্যুটি ঢাকার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে থাকবে সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি। এ ক্ষেত্রে দিল্লি প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও তা মানছে না। এ নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৩ বছরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভাল বলে মনে করা হয়। এই সময়েও ঢাকার স্বার্থের বড় দুটি ইস্যু মীমাংসা না হওয়ায় আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। উভয় দেশের সম্পর্কে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, আগেও ঢাকা-দিল্লির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যার বিষয় দুটি উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে এক ধরনের ইচ্ছার অভাব দেখেছি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় কোনো দেশের ভূমিকা নেই। আমরা কোন দেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখব, সেটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বার্তাটি দিল্লিকে স্পষ্টভাবে দিতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.