মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন দুইজন


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় চতুর্থ দফায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুইজন।

তবে এদিন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনি ও রতন মিয়া সাক্ষ্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হননি। এ কারণে পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ৯ ও ১০ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীরা হলেন- সেলুন ও পরিবহন ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান শান্ত ও মো. শফিকুল ইসলাম সাগর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, চার্জশিটের ৯ ও ১০ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীরা সবাই মামুনুল হক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানান। পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের সময় পরে জানিয়ে দেয়া হবে। সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামুনুল হককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন বলেন, সাক্ষীরা বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে জানেন না, মনে নেই বলে জানিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর জেরা করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী ন্যায় বিচার পাবো। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মামুনুল হককে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে আনা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবার তাকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন।

এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক। গত বছরের ৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় বিচারকাজ শুরুর আদেশ প্রদান করা হয়।

পরে ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, রিসোর্টের আনসার গার্ড ইসমাঈল ও রিশিপশন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.