আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘ’র্ষ, আহত…

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘ’র্ষ, আহত…

রাজনীতি: মুজিবনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স

মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুজিবনগর কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে চেয়ারে বসা ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরহাদ ও জিয়ার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের

কর্মীরা চেয়ার ছুড়ে ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা শুরু করলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।

মুজিবনগর থানার ওসি মেহেদী রাসেল বলেন, সম্মেলন শুরুর সময় দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরে জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফরহাদ হোসেন। মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বাবলুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়

কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, নির্বাহী সদস্য পারভিন জামান কল্পনা। বক্তব্য দেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক

সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সাবজেক্ট কমিটির ভোটের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম তোতাকে সভাপতি এবং আবুল কালাম আজাদকে সাধারণ সম্পাদক করে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘সম্মেলনে মঞ্চের চেয়ারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী হিসেবে অংশ নেওয়া কয়েকজন বসে ছিলেন। তাঁদের বসাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেননি, যে কারণে উত্তেজনা।’ প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী ও সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ বলেন, ‘আমি ঘটনার অনেক পরে ওখানে গিয়েছি। গিয়ে জানতে পেলাম, মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী উত্তেজনা সৃষ্টি করে। চেয়ার ছুড়ে মারে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published.