আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মঞ্চ তৈরিতে খরচ প্রায় ৫০ লাখ


ফরিদপুরে ১২ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী এতে উপস্থিত হবেন বলে ধারণা।

এ জন্য শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এ সম্মেলনের শুধু মঞ্চ তৈরিতেই ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ১ লাখ ৫ হাজার বর্গফুট জুড়ে তৈরি এ মঞ্চে

১৫ হাজার চেয়ারে বসার ব্যবস্থা থাকছে। বৈশাখী ঝড়ের চিন্তা মাথায় রেখে লোহার পোল দিয়ে মূল মঞ্চের কিছু অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মঞ্চ। যাতে কালবৈশাখী ঝড়েও মঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী কিংবা বিভাগীয় নগরের বাইরে এর আগে এত বড় সম্মেলন মঞ্চ করা হয়নি। তবে ফরিদপুরে এ ধরনের মঞ্চ তৈরির ধারণাটি নেয়া হয়েছে রাজবাড়িতে দলের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ দেখে।

যদিও সেটি এত বড় ছিল না। ফরিদপুরের আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনের মঞ্চ তৈরির কাজ করছে রাজবাড়ির নূর ডেকোরেটর নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই ডেকোরেটরের মালিক নূরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,

১ লাখ ৫ হাজার বর্গফুটের এ মঞ্চ তৈরিতে প্রতিদিন দিনরাত মিলিয়ে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রায় এক মাস লাগে এমন মঞ্চ তৈরিতে। তবে আমরা সময় কম পেয়েছি। এ জন্য দিনরাত কাজ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৫ হাজার বাঁশ এবং পঞ্চাশটি বৈদ্যুতিক পোল দিয়ে মঞ্চ করা হচ্ছে। পনেরো হাজার চেয়ারে পনেরো হাজার অতিথি থাকবেন। তাদের জন্য মঞ্চ জুড়ে থাকবে তিন শ ফ্যান। এ মঞ্চ তৈরিতেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এটি শুধু মঞ্চ তৈরিতেই ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।

নূরুল ইসলাম বলেন, রাজধানী বা মহানগরের বাইরে এমন মঞ্চ এর আগে হয়নি। রাজবাড়িতে এর আগে একটি মঞ্চ হলেও সেটি এত বড় ছিল না। জেলা আওয়ামী লীগের এই ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত মাসের ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ধিত সভা। ওই সভায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সঙ্গে অভ্যর্থনা, অর্থ, প্রচার-প্রকাশনা, মঞ্চ ও সাজসজ্জা, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য , অতিথি আপ্যায়ন, খাদ্য সরবরাহ এবং যোগাযোগ ও পরিবহন কমিটি গঠন করা হয়।

মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক এবং অর্থ কমিটির সদস্য ঝর্ণা হাসান বলেন, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধুর জেলা। এ জন্য ফরিদপুরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আগে রাজবাড়িতেও বেশ জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন করা হয়েছে। তার চেয়েও বড় আকারের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। তিনি বলেন, আমাদের হাজার বিশেক নেতাকর্মীর উপস্থিতির টার্গেট রয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও আমন্ত্রিত অতিথি আসবে।

মঞ্চের ব্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের বেতনও বেড়েছে। আগে টাকার দাম ছিল। কিন্তু এখন সবকিছুর দামই বেড়েছে। তাই মঞ্চ তৈরিতে সব মিলিয়ে একটি ভালো অ্যামাউন্টই ব্যয় হবে। তবে ঠিক কী পরিমাণ টাকা এতে খরচ হবে সেটি তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। দলীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এবারের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রধান অতিথি রয়েছেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, সম্মেলন বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতিই গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবে চলছে। মঞ্চ তৈরির কাজও ভালোভাবে চলছে।কী পরিমাণ অর্থ মঞ্চ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে সেটি সংশ্লিষ্ট কমিটি বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, সম্মেলন সফল ও সার্থক করে তুলতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো প্রকার অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হব না বলে আশা করছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে। আশা করছি একটি সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উৎসঃ দেশ রুপান্ত


Leave a Reply

Your email address will not be published.