ফের শামীম ওসমানকে গ্রেফতারের দাবি, জানা গেল নেপথ্যের কারণ

ফের শামীম ওসমানকে গ্রেফতারের দাবি, জানা গেল নেপথ্যের কারণ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানকে গ্রে’ফতারের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা। রোববার (৮ মে) সন্ধ্যায়

নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনে উপস্থিত বক্তারা এ দাবি জানায়। মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হ’ত্যার ১১০ মাস উপলক্ষে প্রতিমাসের ন্যায় আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচীর আয়োজন করে

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ। কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ বলেন, ‘ত্বকীকে হত্যা করার জন্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

শামীম ওসমান তার ভাতিজাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছিলাম। শুধু তার ভাতিজাকে গ্রেফতার করলে হবে না, শামীম ওসমানকে গ্রেফতার করতে হবে। শামীম ওসমানকে গ্রে’ফতার করে যদি আদালতে নেওয়া হয় তাহলে ত্বকী হ’ত্যার সমস্ত ঘটনা বের হয়ে আসবে। নারায়ণগঞ্জ

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ত্বকীর খুনিরা নারায়ণগঞ্জ শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ত্বকীর খুনের নির্দেশদাতা শামীম ওসমানকে গ্রেফতার করতে হবে। খু’নিরা খু’নি, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। আমাদের বোমা হা’মলা ও হু’মকি ধামকি দিয়ে থামানো যাবে না।

আমরা ত্বকী হ’ত্যার বিচার চাই। ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়িতে যাব না। নারায়ণগঞ্জকে শান্তিময় করতে হবে। ওই ওসমান পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিদায় করতে হবে। নি’হত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকী হত্যার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযোগপত্রটি আদালতে পেশ করা হয় নাই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন,

ত্বকীকে কী হ’ত্যা করা হয়েছে, না হয় নাই? হত্যা করা হলে বিচার করতে এত দ্বি’ধা কেন? স্পষ্ট করে যদি বলে দেন দলীয় কেউ অপরাধ করলে, হত্যা করলে তার বিচার হবে না- তাহলে আমরা আর বিচার চাইবো না, অন্য পথ ধরবো। আপনি বলেন শিশু হত্যাকারীরা ঘৃণ্যজীব- আবার ত্বকীর ঘাতকদের পুরস্কৃত করেন। সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রের চোখে সকল নাগরিক সমান। তাদের নিরাপত্তা দেয়া, বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার শপথ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। তা হলে পদে পদে তা লঙ্ঘিত হবে কেন?

তিনি বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন হলে একটি হত্যার বিচারের অভিযোগপত্র তৈরী হয়েও তা নয় বছর আটকে থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারেন না- তাদের অপরাধটা কী। জনগণ কেন তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। আপনারা আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভয় পান। আয়নার সামনে ঠিকই দাঁড়ালে বুঝতে পারতেন। নিজেদের ভয়ানক রূপটি দেখতে পেতেন। আমরা এ বৈষম্যমূলক, গণবিরোধী বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। সংবিধানে উল্লেখিত জনগণের অধিকারগুলোর বাস্তবায়ন চাই। সাগর-রুনী, তনুসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যার বিচার চাই।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা প্রমূখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.