এলডিপি থেকে শতাধিক নেতার পদত্যাগে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

এলডিপি থেকে শতাধিক নেতার পদত্যাগে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি

কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) থেকে শতাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) দলটির সহসভাপতি ড. আবু জাফর সিদ্দিকী ও যুগ্ম মহাসচিব তমিজউদদীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা লিখেছেন— বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রপন্থী মানুষেরা যখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার সংগ্রামে সক্রিয়,

তখনও অলি আহমদ তার নেতৃত্বের পুরো ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এলডিপিকে একটি ‘রহস্যজনক রাজনৈতিক’ দল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক হয়ে গত ১০ বছর ধরে জোটবিরোধী কার্যক্রম করেছেন। অবস্থান নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে অলি আহমদ চূড়ান্ত অর্থে ‘কর্তৃত্ববাদী ও আত্মঅহঙ্কারে’ নিমগ্ন একজন মানুষ। যখন তারই মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ পুলিশের মিথ্যা মামলায় কারাগারে, তখন তিনি ভ্রমণে। একটি দলের সভাপতি হিসেবে এর চেয়ে ‘আত্ম অহমিকা’ আর কী হতে পারে।

দল থেকে পদত্যাগ করা এলডিপির সহসভাপতি ড. আবু জাফর সিদ্দিকী দাবি করেন, দল প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে দেশের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন এসেছে। যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমাগত ‘অবস্থান পরিবর্তন’ করে গেছেন অলি আহমেদ। নিয়মিত বিরতিতে রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টানোর কারণে ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাকালের জ্যেষ্ঠ নেতারা নেতৃত্ব ত্যাগ করেছেন। দুর্ভাগ্যক্রমে এই ধারা থেকে অলি আহমদ সরে আসেননি। বরং দিনে-দিনে একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক দলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছেন।

এদিকে পাল্টা আরেক বিবৃতিতে অলির অংশের যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন রাজ্জাক বলেন, দল থেকে পদত্যাগকারী বেশ কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে এলডিপির প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নকল করে পদ বিক্রি করে আসছিলেন। যা এলডিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে তাদের এলডিপির দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি ড. আবু জাফর সিদ্দিকী, উপদেষ্টা পুষ্টিবিদ ফরিদ আমিন, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. ইব্রাহিম রওনক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি এএসএম মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. আফজাল হোসেন মোর্শেদ, যুববিষয়ক সম্পাদক শফিউল বারী রাজু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক লস্কর হারুনুর রশিদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন মণ্ডল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান, গণতান্ত্রিক যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাবু, সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফয়সাল ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাঠান বিপ্লব, কাজী কামরুল হাসান, জাহাঙ্গীর আল সানি, হারুন অর রশিদ, ইউনুস বেপারি, রেজওয়ানুল ইফতেখারসহ ১০০ জন।

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা বদরুদ্দোজা, সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হাই নোমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হোসাইনসহ ২৩ জন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হকসহ এলডিপির ২১ জন্য সাধারণ সদস্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published.