গরীবেরা ভয়ে ভয়ে মসজিদে ঢুকে, আল্লাহর ঘর এখন পুরোটাই অচেনা

গরীবেরা ভয়ে ভয়ে মসজিদে ঢুকে, আল্লাহর ঘর এখন পুরোটাই অচেনা

এলাকায় সাধারণ একটা মসজিদ ছিল। সিলিং ফ্যানগুলোও সাধারণ ছিল। মসজিদে তেমন দামি কিছু নেই, তাই চুরি যাওয়ার ভয়ও নেই। বলতে গেলে সারাদিনই মসজিদ ওপেন থাকতো।

মুসল্লিরা যখন তখন এসে নামাজ আদায়সহ কোরআন তেলাওয়াতও করতে পারতেন। গরীব মানুষেরা একটু গা এলিয়ে বিশ্রামও নিতে পারতেন।
তারপর শুরু হলো মসজিদের উন্নয়ন কর্মসূচী।

গরমে মানুষের কষ্ট হয় তাই এসি কেনা প্রয়োজন। মিম্বর থেকে হুজুরের আবু-বকর (রা), ওমর (রা) এর দানের ইমোশনাল কাহিনী দিয়ে টাকা কালেকশন। মাশাল্লাহ পুরো মসজিদ এখন দামি টাইলস, এমনকি বাইরের ওয়াল পর্যন্ত কারুকার্যে ভরা।

দামি দামি কার্পেট। তারপর আবার ২ পাশে সারি সারি চেয়ার তো আছেই, আগে মসজিদে ২-৩ জন দায়িত্ব নিলেই হয়ে যেতো, আর এখন মসজিদ কমিটিও অনেক বড়! প্রায় মসজিদে এলাকার টপ ঘুষখোর, চোর, সুদখোর, অত্যাচারী, ক্ষমতাধর প্রকৃতির লোকেরাই সেই কমিটির সদস্য,

আবার সভাপতিও। এদের অজ্ঞতার কারণে হোক বা ঈমামদের গাফিলতিতে হোক জানিনা, তবে অধিকাংশ মসজিদে আল্লাহু আকবর্ আল্লাহ বড় বা আল্লাহ মহান এই কথাটির সমান উচ্চতায় বা একই মর্যাদায় মুহম্মদ (সা:) এ নামটিও লেখা থাকে।

তা’হলে আল্লাহ এবং মুহম্মদ (সা:) কি একই মর্যাদায় বা আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়ে গেল না? হযরত মুহম্মদ (সা:) তো আল্লাহরই সৃষ্ট বান্দা। তবে কেন তাকে আমাদের মাথার উপরে স্থান দিয়ে সেজদা করতে হবে? সিজদার স্থানে থাকবে একমাত্র আল্লাহর নাম। সেখানে মুহম্মদ (সা:) এর নাম রাখা সম্পূর্ণ শিরকী গোনাহ।

মসজিদের ভ্যালু এখন অনেক। চুরি যাওয়ার ভয় তো আছেই। অতএব সারাক্ষণ মসজিদ খোলা রাখা যাবে না।তাই এখন প্রায় অনেক মসজিদই নামাজ ব্যতীত অন্যান্য সময় তালাবদ্ধ থাকে, মসজিদে টাইম মেনে মুসল্লিদের আসা যাওয়া করতে হবে। গরীবেরা এখন ভয়ে ভয়ে মসজিদে ঢুকে টাইলস কার্পেট অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় কিনা। তাদের পরিচিত আল্লাহর ঘর এখন পুরোটাই অচেনা।

আগের দিনে মানুষ এ দায়িত্ব নিতে ভয়ে কাঁপত কোন ভুল হয়ে যাচ্ছে কিনা। এখন মসজিদে চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সারা পথ হেঁটে এসে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে এ ব্যাপারে ইমাম, খতিবদের কোনো ফতোয়া নাই। সুদখোর, চোর,ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে কোনো ফতোয়া নাই। আস্তে আস্তে কেয়ামতের দিকে এগোচ্ছি আমরা। নামাজিরা নামাজ শেষ করার আগে মসজিদ তালাবদ্ধ করার জন্য ইমাম মুয়াজ্জিন দাড়িয়ে থাকে দরজার গোড়ায়।ওদের ও সময় নাই নিজের দায়িত্ব পালনে। ভবিষ্যতে আরো কতকিছু দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা। – কাহিনিটা সম্ভবত সব এলাকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

-ফেসবুক থেকে সংগৃহীত


Leave a Reply

Your email address will not be published.