কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: আ.লীগে ঐক্য, বিএনপি নেতাদের মধ্যে কোন্দল

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: আ.লীগে ঐক্য, বিএনপি নেতাদের মধ্যে কোন্দল

রাজনীতি: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর কেউ বিদ্রোহী হবে না বলে জানিয়েছেন।

এ ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন বঞ্চিত ও তাদের অনুসারীদের একসঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও দলটির দুই নেতা গত দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার মাঠে

সক্রিয় আছেন বলে জানা গেছে। নেতাদের এই কোন্দলের সুফল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পকেটে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দুই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির দুর্গ খ্যাত কুমিল্লার সদর আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে।

প্রথম সিটির নির্বাচন হয় ২০১২ সালে। নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান জয় পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পাননি তিনি। এরপর ২০১৭ সালে দ্বিতীয়বার সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ২০১২ সালে পরাজিত মেয়র প্রার্থী আফজল খানের মেয়ে ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা।

তিনিও বিএনপির মনিরুল হক সাক্কুর কাছে ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত। আশা করা হচ্ছে এবার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিতে কাজ করবেন। তবে এ জন্য বিভিন্ন পক্ষের অনুসারীদের একই কাতারে আনার জন্য বলছেন সংশ্লিষ্টরা।কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেন,

গত দুই নির্বাচনে নানা জটিলতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় হতে পারেননি। এবারও যদি সব সমস্যার সমাধান না হয় এবং নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ না করেন তাহলে বিপদ হতে পারে। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, কুমিল্লার মানুষ জানে গত দুইবার নির্বাচনে কি হয়েছে। তবে সত্যিকারের আওয়ামী লীগের লোকেরা গ্রুপিং করে না। এবারের কুসিক নির্বাচনে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে কুমিল্লা থেকে নৌকার মেয়র উপহার দিতে একসঙ্গে কাজ করছি।

মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক শিব প্রসাদ রায় বলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্ত সব সময় মেনে আসছি। গত দুইবারও আমরা নৌকার পক্ষে মাঠে ছিলাম। কিন্তু সাধারণ ভোটাররা আমাদের ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। এবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি থেকে দলের ও সাধারণ মানুষের প্রস্তাব ছিল আরফানুল হক রিফাত যাতে মনোনয়ন পান, তা হয়েছে। আশাকরি এবার মানুষ আওয়ামী লীগ তথা নৌকাকে জেতাবে।কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আকম বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, আমি আহবান করলাম, যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তারা আসুন, নির্বাচনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন। সবাই মিলে আমরা কুমিল্লা থেকে নৌকাকে জয়ী করবো।

এদিকে দলের দুই নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় বিএনপির ভোট ভাড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সুবিধা নৌকা প্রার্থী পাবেন বলে মনে করছেন তারা। বিএনপির দুই নেতা নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দুই প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি থেকে প্রার্থী না দিলেও এবার মাঠে থাকবেন তারা। গত দুইবারের মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নির্বাচন করছি শুভাকাঙ্ক্ষীদের ইচ্ছায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার জয় নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির অপর প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নতুন প্রজন্মের নতুন কুমিল্লা স্লোগানে আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। কুমিল্লার মানুষ নতুন কিছু চায়। এছাড়াও কুমিল্লায় বিএনপির অনেক সমর্থক রয়েছেন। কিন্তু তারা নির্ভর করার মতো নেতা না পাওয়ায় এক প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়ে আসছেন। আমি বিশ্বাস করি, কুমিল্লার মানুষ নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাবে। এদিকে ১৫ জুন তৃতীয় সিটি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন কুমিল্লাবাসী। তাদের দাবি যেই মেয়র হোক, তিনি যেন জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়কের উন্নয়নসহ সিটির বিভিন্ন সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধান করে কুমিল্লাকে বাসযোগ্য সিটি হিসেবে গড়ে তোলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.