দরিদ্র হালিমার ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান চিত্রশিল্পী!

দরিদ্র হালিমার ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান চিত্রশিল্পী!

নিউজ ডেক্স: ২০০১ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ম্যালকম আর্নল্ড। সেসময় দেখা হয় স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় তরুণী হালিমার সাথে।

সেখান থেকে ২৫ মিনিটের পরিচয়ে দরিদ্র হালিমার প্রেমে পড়েন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ম্যালকম আর্নল্ড। ভালোবাসার টানে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে

বাংলাদেশে এসে খুলনার স্বামী পরিত্যক্তা হালিমাকে বিয়ে করেন আর্নল্ড। এরপর এদেশেই থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য নিজ জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকা সহায়-সম্পদ বিক্রি করে চলে আসেন খুলনায়।

তারপর থেকেই সেখানেই আছেন সস্ত্রীক। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অভাব এখন ম্যালকম আর্নল্ডের নিত্যসঙ্গী! এখন তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না,

দিতে পারছেন না বাড়ি ভাড়া। এমনকি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও হচ্ছে না। এদিকে হালিমা বলেন, আর্নল্ডের কাছে যথেষ্ট অর্থ ছিল। সবই শেষ। আগে তিনি ছবি এঁকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১১ সালে আর্নল্ডের প্রথম স্ট্রোক হয়।

এরপর সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কোভিডের কারণে তার ছবি বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন সংসার চালানো আর তার চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছে। হালিমা আরও বলেন তাকে বিয়ের পর আর্নল্ড বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত বইয়ের কাজ শেষ করেন।

প্রিন্ট করার জন্য ঢাকার একটি পাবলিকেশনে বইয়ের পাণ্ডুলিপিও দেন। কিন্তু বইটি প্রকাশ হয়নি। ফলে খাবার, বাড়ি ভাড়া এবং ওষুধপত্র ও চিকিৎসা করানো আমাদের জন্য কঠিন।কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ছবি বিক্রিও হয় না এখন।

অসুস্থ হওয়ার কারণে আগের মতো ছবি আঁকতেও পারে না। হাত কাঁপে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পরেছে। এতে করে হালিমা অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছেন যাতে করে নিজেই কিছু করে চলতে পারে আর স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারে।

অপর দিকে ম্যালকম আর্নল্ডের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্ত্রীই এখন আমার সব। সে আমার সেবা করছেন মন প্রাণ দিয়ে। আমার পাশে আছে দীর্ঘকাল। আমি অস্ট্রেলিয়া ফিরতে চাই না। এদেশের মাটিতেই থাকতে চাই। তিনি আরও বলেন, এদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীবনধারার ছবি এঁকে জীবিকা নির্বাহ করতাম।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন


Leave a Reply

Your email address will not be published.