যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সমাবেশে বিএনপি-পুলিশ সং’ঘর্ষ

যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সমাবেশে বিএনপি-পুলিশ সং’ঘর্ষ

রাজনীতি: মাগুরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুকের সমাবেশে মাইক ব্যবহার নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার বেলা ১১টায় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মাগুরা জেলা বিএনপি শহরের ইসলামপুর পাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

এ সমাবেশে মাইকের ব্যবহার বন্ধ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে ১৪ মে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ওই দিন জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে মাগুরা শহরে ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগম ঘটায় তারা নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের জন্যে ১৫ মে রোববার বেছে নেয়।

সেই অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের আয়োজন করে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফারুকুজ্জামান জানান, বেলা ১১টায় জেলা বিএনপি আহবায়ক আলি আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়।

কিন্তু শুরুতেই পুলিশ দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে সমাবেশের জন্যে ব্যবহৃত মাইকের যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। যে কারণে ছোট হাতমাইক দিয়েই সমাবেশ চালানো হচ্ছিল।তিনি জানান, সমাবেশে উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মাইক ব্যবহারের অনুমতি নেন। অথচ তিনি মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করলেই সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সমাবেশের ওপর হামলা চালায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক তার বক্তব্যের শুরুতেই দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তার বক্তব্যের পর কোনো মিছিল করা হবে না। এখানেই শেষ হবে আজকের কর্মসূচি। কিন্তু তার এই বক্তব্যের মধ্যেই পুলিশ মাইক বন্ধের চেষ্টা করলে দলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক, জেলা যুবদল সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল, ছাত্রদল নেতা রনিসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।

এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মাঝে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় পুলিশ জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুর রহিম, বিএনপি কর্মী লুৎফরসহ ৪ জনকে আটক করে। মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের শুরু থেকেই পুলিশ নানাভাবে তাদের উত্তেজিত করে তোলে। অনুমতি নিয়েই মাইক ব্যবহার করা হয়েছিল। তারপরও তারা হামলা চালিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। পুলিশের এ ভূমিকার নিন্দা জ্ঞাপন করে তিনি আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের থেকেই বিএনপি কর্মীরা সেখানে হট্টগোল শুরু করে। বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতেই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.