মার্কিন তহবিল পাচ্ছে না বাংলাদেশ, যা বললেন সচিব

মার্কিন তহবিল পাচ্ছে না বাংলাদেশ, যা বললেন সচিব

নিউজ ডেষ্ক- মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের শ্রমখাতের মান ও অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে।

শ্রম অধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ যথাসম্ভব কাজ করছে। ওই উদ্বেগের কারণে বিশেষত: শ্রমমানের উন্নতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন বিষয়ক আর্থিক সহায়তা সংস্থার (ডিএফসি) তহবিল পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিএফসি তহবিল থেকে অর্থ না পেলেও বাংলাদেশের তেমন অসুবিধা হচ্ছে না! আগামী ২রা জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সংলাপে

শ্রম অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে জানিয়ে সচিব বলেন, সেখানে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো। সেই বৈঠকের সাইউ লাইনে র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য ওই সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মাথায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বুধবার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

মধ্যাহ্নে সেগুনবাগিচায় ঘন্টাব্যাপী মুখোমুখি ওই বৈঠক হয়। সেখানে অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে দুই দেশের সার্বিক সম্পর্কে গতি আনতে একটি ‘নতুন মেকানিজম’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তবে দুই দেশের সম্পর্কে অনেক স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে, যা নিয়ে বছরব্যাপী সিরিজ আলোচনা হয়

সম্পর্কের স্পর্শকাতরতা এবং গুরুত্ব বিবেচনায় সেই আলোচনাগুলোর ফলোআপে নতুন একটি মেকানিজম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে ওয়াশিংটন। যার আওতায় বছরান্তে এক দফা আলোচনা হবে। ওই মেকানিজম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সবকিছু স্মুথলি অগ্রসর হলে আগামী জুলাই থেকেই এটি চালু হতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বুধবারের বৈঠকে ওয়াশিংটন প্রস্তাবিত মেকানিজম নিয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।
এদিকে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মার্কিন দূত বলেন, গত কয়েক মাসে ঢাকা-ওয়াশিংটন সিরিজ দ্বিপক্ষীয় সংলাপ হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে অনেক ইস্যুতে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আগামী ২রা জুন ওয়াশিংটনে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, সব আলোচনার উদ্দেশ্য একটাই সম্পর্কে গতি আনা। বিদ্যমান সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায় তাতে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করছে। সম্পর্ককে গভীর করতে প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রিক কিছু ব্যবস্থা (মেকানিজম) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়েছে কি-না? জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, না, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নতুন করে কোন আলোচনা হয়নি। তবে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আমরা বড় পরিসরে সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করছি।

প্রস্তাবিত নতুন মেকানিজম বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইতোমধ্যে যে সংলাপগুলো হয়েছে এবং আগামীতে যে সংলাপগুলো হবে, সেগুলোর ফলো-আপ করার জন্য একটি মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করতে। ওই মেকানিজমের আওতায় দুই দেশের মধ্যে যে ইস্যু বা অমীমাংসিত বিষয় কিংবা চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। সচিব বলেন, এমন মেকানিজম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে কোন সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। শুধুমাত্র সংলাপ করলাম কিন্তু এর ফলাফল কি আসছে তা দেখলাম না এটি হতে পারে না। ফলে সংলাপগুলোর সিদ্ধান্ত বা ফল বিষয়ে সময় সময় আমাদের পর্যালোচনা দরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে সেই পর্যালোচনার ম্যাকানিজম ফাংশনিং হতে পারে জানিয়ে সচিব বলেন, ভারত, জাপানসহ অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের এমন মেকানিজম রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে লাইন অব ক্রেডিট নিয়ে ভারত নিয়মিত বৈঠক করে থাকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্টনারশিপ ডায়ালগ, নিরাপত্তা ডায়ালগ, ডিফেন্স ডায়ালগ, টিকফা এবং উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ চলমান রয়েছে। করোনাকাল ছাড়া অল্টারনেটিভ ভেন্যুতে প্রতি বছর সংলাপগুলো হয়ে আসছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.