সিলেটের বন্যার প্রকৃত কারণ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটের বন্যার প্রকৃত কারণ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এবার পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে সিলেট জেলা পানিতে ভাসছে। ফসলি জমি, বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানিতে।

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ফলে প্লাবিত এলাকার মানুষজন ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। গতকাল মঙ্গলবার ১৭ মে সুরমা নদীর পানি

উপচে নগরীতে প্রবেশ করায় বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে যায়। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অনেক অফিসে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

সিলেটে অকাল বন্যায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বন্যা দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শনে আজ বুধবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট এসে পৌঁছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা প্লেনে থেকে দেখেছি, সব জায়গায় বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। কয় একটা সেন্টারে গিয়ে সাহায্য বিতারণ করবো। বন্যায় ভয় পাওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে এই মৌসুমে সব সময়ই ঢল নামে।

পানি বেশি দিন থাকে না। ঢলের পানি নেমে যাবে। আমাদের ছেলেবেলা থেকে এমনটি দেখেছি। নগরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মাঠ, খাল ও পুকুর ভরাট এবং দখল হয়ে যাওয়ায় পানির ধারণক্ষমতা কমে গিয়ে পানি নামতে পারছে না।

সিলেটকে বলা হতো দিঘির শহর। কিন্তু এখন সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করা হয়েছে। হাওরগুলো ভরাট করে ফেলেছি। এ জন্য সব নাগরিককে সচেতন থাকতে হবে। খাল, পুকুর ভরাট করা যাবে না।’

সিলেট নগরের খাল ও পুকুর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন সিলেট-১ আসনের এই সংসদ সদস্য। আমাদের পুকুর ভরাট করা কমাতে হবে। সারাদেশের নদ-নদী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করেছেন। সুরমা-কুশিয়ারা ড্রেজিংয়েরও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তবে আগামী বছর বর্ষা মৌসুমের আগে নদী খনন করা গেলে বন্যার প্রকোপ ঠেকানো সম্ভব হবে। এতে আমাদের ক্ষয়ক্ষতিও কমবে। এ সমস্যা সমাধানে সিলেট ঘেঁষা সুরমা ও কুশিয়ারা নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কাজগুলো করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.