আসুন সকলে মিলে সচেতন হই, সমাজকে এ কুসংস্কার থেকে রক্ষা করি।

আসুন সকলে মিলে সচেতন হই, সমাজকে এ কুসংস্কার থেকে রক্ষা করি।

নিউজ ডেক্স: আমাদের বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিয়ে মানেই যৌতুকের আনাগোনা। সমাজে ধরেই নেয়া হয় পুত্র সন্তান মানেই ধন-সম্পদ, পরিবারে অর্থ উপার্জন বা অর্থ আনার লক্ষ্মী৷

সুতরাং তাকে দেখেই যেন মেয়ের বাপ-মা সবকিছু উজার করে দেবেন৷ অথবা কেউ দেবেন চাকরি, কেউ দেবেন সম্পত্তি৷ একবার ভাবুন তো, একটা পরিবারে একজন মেয়ে তো ঠিক ততটাই আদর যত্নে বড় হয়, যতটা একটা ছেলে৷

সেই যত্নের ধনকে আপনার হাতে যখন তুলে দেয়া হচ্ছে, আপনি তাকে আপনার পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করছেন, অর্থাৎ শর্তহীন ভালোবাসায় গ্রহণ করছেন তাকে৷ সেখানে ভিক্ষার দান তথা যৌতুক থাকবে কেন?

বিত্তশালী পরিবার থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত, সব পরিবারেই মেয়েদের পাত্রস্থ করতে হলে যৌতুক দিতে হয়। অনেকে অবশ্য যৌতুককে যৌতুক না বলে উপহার হিসেবে অভিহিত করেন। আমাদের দেশে যৌতুক দুই ধরনের। একটা এককালীন।

অর্থাৎ বিয়ের সময়ই যৌতুক দিয়ে দেওয়া হয়। আরেক ধরনের যৌতুক হচ্ছে সারা জীবন ধরে দিয়ে যেতে হয় কনেপক্ষকে। এর কোনো শেষ থাকে না। মেয়ের সুখের কথা ভেবে কনেপক্ষও যৌতুক দিতে থাকেন। মেয়ের জামাইয়ের বিদেশ যাওয়া উপলক্ষে যৌতুক।

জামাইয়ের বোনের বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক। জামাইয়ের চাকরির জন্য মোটা অ’ঙ্কের ঘু’ষ দিতে হবে, সে জন্য চাই যৌতুক। জামাই ব্যবসা করবেন, পুঁজি লাগবে—চাই যৌতুক। অর্থাৎ যেকোনো সময় যৌতুক লাগবে। এ জন্য কনেপক্ষকে তা দেওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

কী থাকে না যৌতুকের তালিকায়! নগদ অর্থ, ফ্রিজ, টেলিভিশন আলমারি, খাট, ড্রেসিং টেবিল, গাড়ি, বাড়ি, জমি মোটরসাইকেল, মুঠোফোন—মোটামুটি সবই থাকে এই তালিকায়। মেয়ে দেখতে-শুনতে ও যোগ্যতায় যেমনই হোক না কেন, বরপক্ষকে যৌতুক দিতেই হবে। তবে মেয়ের গায়ের রং যদি চাপা হয় বা

শারীরিক কোনো ত্রুটি থাকে বা একটু বয়স বেশি হয়, তাহলে যৌতুকের পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে যৌতুক দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় অনেক মা-বাবা তাঁদের মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছেন না। এই যৌতুকপ্রথার কারণেই বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে মেয়েসন্তান অনাকাঙ্ক্ষিত।

বাবা-মায়ের সামর্থ্য না থাকলেও এই দেখানোর প্রতিযোগিতায় কত পরিবার যে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে তার খবর রাখে কে? এর মাধ্যমে যে যৌতুককে উসকে দেয়া হচ্ছে, সেটাই বা মানতে চাইবে ক’জন? তাই এই ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে আমাদেরই৷

সরকারকে যৌতুকবিরোধী আইন সম্পর্কে প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং যেখানে দরকার হবে সেখানেই আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আর যাঁরা সত্যিই যৌতুকপ্রথাকে ঘৃণা করেন, তাঁদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষতিকর এই প্রথাকে সমাজ থেকে দূর করতে সহায়তা করতে হবে। আমরা চাই, সব বিয়ে হোক বিনা যৌতুকে।

যেসব পুরুষ যৌতুক নিয়ে বিয়ে করতে চাইবেন, নারীরা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করুন। তাঁদের কোনো অবস্থাতেই বিয়ে করবেন না। কারণ, তাঁরা আর যাই হোক, ভালো মানুষ নন। আর পুরুষদের বলছি, আজই শপথ নিন, বলুন, যৌতুক নিয়ে বিয়ে করব না। এখনই না বলুন যৌতুককে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.