অলি আউলিয়ার শহর পূণ্যভূমি সিলেট আজ এমন। দায় কার?

অলি আউলিয়ার শহর পূণ্যভূমি সিলেট আজ এমন। দায় কার?

নিউজ ডেষ্ক- অলি আউলিয়ার শহর পূণ্যভূমি সিলেটের মানুষ আজ ভয়াবহ দিন পার করছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চারপাশ।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুরমাসহ সিলেটের প্রধান প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি সিলেট নগরীর ভেতরে ঢুকে নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে।

পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে নগরীর রাস্তাগুলো। পরিস্থিতি এমন যে, অনেক এলাকায় মানুষ নৌকায় চলাচল করছে। পানি ঢুকে পড়েছে সিলেটের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও।

সার্বিক অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সিলেট জেলার ৬ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা পানিতে ভাসছেন ৪ দিন ধরে। বন্যার অবনতি হয়েছে সিলেট সদর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায়।

সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় এবং সুরমার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নগরীতে ১৬টি ও অন্য জায়গায় ১৯৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ওদিকে সুনামগঞ্জ জেলার গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কে পানি ওঠায় ছাতকের সঙ্গে সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

কিন্তু অলি আউলিয়ার শহর পূণ্যভূমি সিলেটের অবস্থা আজ এমন কেন? বন্যা এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি প্রতিবছরই হয়ে থাকে। কিন্তু গত বছরগুলোর তুলনায় এবার কেন এত করুন অবস্থা? এ দায় কার? কেন এই বন্যা মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হলো না। আগে থেকেই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলে হয়তো অলি আউলিয়ার শহর পূণ্যভূমি সিলেটের মানুষের আজ এমন ভয়াবহ দিন দেখতে হতো না। আগামী বছরগুলোতে এ বিষয়ে পুণ্য সতর্ক হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেটের স্থানীয় জনগণসহ সবাই।

মূলত ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সর্বনাশ হয়েছে সিলেটের৷ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলেই এই ভয়াবহ অবস্থা! তাছাড়া দেশের বিভিন্ন খাল-বিল যদি ভূমিখেকোরা দখল করে না নিত তাহলে হয়তো এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতো না। সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দ্রুত খাল-বিল দিয়ে পানি চলে যেত। জনগণকে এই ভোগান্তির শিকার হতে হতো না। এখন সময় এসেছে এই ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার।


Leave a Reply

Your email address will not be published.