সিলেটে বন্যা নিয়ে যা জানালেন জেলা প্রশাসন

সিলেটে বন্যা নিয়ে যা জানালেন জেলা প্রশাসন

সিলেটে ধীর গতিতে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি এখনও। পানি বাহিত রোগের আশংকায় সতর্ক প্রহরা বসিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সেই সঙ্গে এখনই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছে প্রশাসনও। বন্যার পানি নামলে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন তখন আরও পরিস্কার হবে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে,

সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ৩২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নদীর পানি কিছুটা কমায় নগরীর আবাসিক এলাকাগুলো থেকে ধীর গতিতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে।

তবে, বাড়ি-ঘর বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকছেন দুর্গতরা। কিন্তু সেখানেও বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটের কথা বলছেন আশ্রয়গ্রহণকারীরা। তাদের মতে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি বহু দিন। এর আগে ২০০৪ সালে বন্যায় ভেসেছিলো সিলেট।

আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটে পড়েছেন নগরবাসী।

নিচু এলাকায় ঘরের ভেতর হাঁটু পানির কারণে রান্না করতে পারছেন না অনেকে। জরুরি নথিসহ বিভিন্ন জিনিস নষ্ট হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানিবাহিত রোগের আশংকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে নগর স্বাস্থ্য বিভাগ।

তবে, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, বন্যা পরবর্তী পূনর্বাসনের ব্যপারেও ভাবছে নগর কর্তৃপক্ষ। পানি নেমে গেলে ঘরবাড়ি সংস্কারের পাশে থাকবে সিটি কর্পোরেশন।সিলেটের আবহওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টি কমলে এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। উজানের ঢল কমে আসছে নদীর পানিও কমবে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় সুমরা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার, সিলেটে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে গত এক দিনে ওই তিন পয়েন্টেই সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.