বহিষ্কারে তোয়াক্কা নেই বিএনপি নেতাদের

বহিষ্কারে তোয়াক্কা নেই বিএনপি নেতাদের

রাজনীতি: দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। দল থেকে বহিষ্কারের পরও কুসিক নির্বাচনে মনিরুল হক

সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। এই দুই নেতার পথ অনুসরণ করে একইভাবে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন বিএনপিপন্থী ১৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। তাঁদের বেশির ভাগ দলের পদ-পদবি বহন করছেন।

এই ১৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন সদ্য সাবেক কাউন্সিলর। আর ২০১২ সালের নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলর রয়েছেন তিনজন। বিএনপিপন্থী দুই মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে দল থেকে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও এই কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়।

দল তাঁদের বহিষ্কার করতে পারে—এ বিষয়টিকে তাঁরা তোয়াক্কাই করছেন না। তবে কুমিল্লা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, কুসিক নির্বাচনে বিএনপি বা দলের অঙ্গসংগঠনের যাঁরাই অংশ নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন এনামুল হক। তিনি ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। একই ওয়ার্ডে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মোমেন। নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন বিএনপিকর্মী মিজানুর রহমান

মিলন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন বিএনপিকর্মী সৈয়দ মহসিন আলী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শাখাওয়াত উল্লা শিপন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন শহর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সেলিম খান, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন শহর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। সাইফুল গত বছর আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও এখনো তিনি সবার কাছে বিএনপি নেতা হিসেবেই পরিচিত।

নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন কুমিল্লা মহানগর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম মজুমদার, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন জেলা যুবদল নেতা ও সদ্য সাবেক কাউন্সিলর কাজী মাহাবুবুর রহমান, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন জেলা যুবদলের সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেন এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য শাহ আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এখনো দল থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি গত পাঁচ বছর কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছি। মানুষ আমাকে আবারও তাদের পাশে চায়। তাই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। ’ কুমিল্লা শহর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সেলিম খান বলেন, ‘আমি এখন বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে নেই। তবে বিএনপির সমর্থক বলতে পারেন। আমার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি রয়েছে। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো দুজন কাউন্সিলর প্রার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এসব বহিষ্কারের তোয়াক্কা করি না। বিএনপির সঙ্গে আছি, বিএনপির সঙ্গে থাকব। ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচন করতে দিতে হবে। কারণ এখানে নিজের এলাকার অনেক বিষয় জড়িত। আওয়ামী লীগের কেউ কাউন্সিলর হলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন আরো বাড়বে। ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হলেও এখনো মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়নি। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাই এখনো মহানগর বিএনপির সব কিছু দেখভাল করছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘বিএনপি এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না। এমপি পদ থেকে তৃণমূলের মেম্বার-কাউন্সিলর পদ পর্যন্ত একই নিয়ম। বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এরই ধারাবাহিকতায় সাক্কু ও কায়সারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের পক্ষে যেন কেউ কাজ না করে সে জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যাঁরা কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশগ্রহণ করছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করছি। ’

নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা: কুসিক নির্বাচনে বহিষ্কৃত নেতাদের পক্ষে কাজ না করতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ওই নির্দেশনার কপি পাঠানো হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.