মানুষ পদ্মা সেতু দিয়ে যাবে আর আ’লীগকে ভোট দেবে: মায়া

মানুষ পদ্মা সেতু দিয়ে যাবে আর আ’লীগকে ভোট দেবে: মায়া

আগামী নির্বাচনে জয়ের জন্য এক পদ্মা সেতুই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন,

সামনে জুন মাস আসছে, এক পবিত্র মাস। ১৮ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে, পদ্মা সেতুটা খুলে দিলেই একবার ওইটার ওপর দিয়ে যাবে। মানুষ সেতু দিয়ে যাবে আর আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।

সোমবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: মুক্তির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মায়া বলেন, শেখ হাসিনা আছে বলেই আজ আমরা শান্তিতে আছি, পেট ভরে খাই, শান্তিতে ঘুমাই। ৩০টা বছর আমরা ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। এই ৩০ বছর আমাদের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিনা পয়সায় বই দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাচ্ছেন। মাস শেষে ২০ হাজার করে ভাতা পান। এমনিতেই বলে না, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। কথাটা শুনলেই মন ভরে যায়। যদি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

মিডিয়া বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও কিছু বুদ্ধিজীবীকে বাঁচিয়েই রেখেছে টেলিভিশন ও বাক্সগুলো (ক্যামেরা)। তা না হলে বাটি চালান দিয়ে হলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যেতো না। অথচ আজকে তারা কতো বড় বড় কথা বলেন। তারা নাকি আওয়ামী লীগের পিঠের চামরা রাখবে না।

সাতদিনে নাকি খাইয়া শেষ কইরা দেবে। আরে ব্যাটা, শেখ হাসিনা এখনো ফুঁ-ই দেয়নি একটা। একটা ফুঁ দিয়ে যদি আমাগো ছাইড়া দেয় রাস্তায়, ৭ মিনিট রাস্তায় থাকতে পারবা না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ এই রাস্তার ছাত্র না। সবাই এই ভার্সিটির শিক্ষক। অনেকে ভাইস চ্যান্সেলর হয়ে গেছি। আন্দোলন কীভাবে করতে হয়, সন্ত্রাস কীভাবে ধ্বংস করতে হয় আর মিথ্যাবাদীদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হয়, তা আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। সময়মতো জবাব দিয়া দিমু।’

নেতাকর্মীদের ঘরে না বসে থেকে রাজনীতির মাঠে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ সময় আসছে রাজপথে নামার। ১৩ বছর আরামে ঘুমাইছেন, আজকে মোবাইলের রাজনীতি বাদ দিয়ে সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। মোবাইল যেমন আমাদের এগিয়েও নিয়েছে, আবার পিছিয়েও নিয়েছে। এই মোবাইল রাজনীতি বাদ দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক মাঠে থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের জনশক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজমল্লিকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.