বীর সৈনিকের মতো দেশকে রক্ষা করছে প্রবাসীরা, অথচ এরাই বেশী ভোগান্তির শিকার

বীর সৈনিকের মতো দেশকে রক্ষা করছে প্রবাসীরা, অথচ এরাই বেশী ভোগান্তির শিকার

নিউজ ডেক্স: যখনই দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির কথা আসে, তখন একবাক্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কথা আগে বলতে হবে। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান সোপান রেমিট্যান্স।

অর্থনীতিতে অক্সিজেনের মতো ভূমিকা রাখছে প্রবাসীরা। পরবাসে গতর খেটে লাল-সবুজের পতাকা সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জোগান দিয়ে আসছেন প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে আসা প্রবাসীরা। তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সে গড়ে

ওঠা স্তম্ভে মজবুত হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত। করোনা মহামারির চলমান সংকটের মধ্যেও প্রবাসীদের আয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা সত্যিকার অর্থে অবিশ্বাস্য। প্রতিনিয়ত এ ধারা অব্যাহত রাখাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা চরম এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। দেশটিতে এখন শুধু হাহাকার। জ্বালানী তেল এবং খাদ্য কেনার জন্য উর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে সাধারণ মানুষ।

বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট বেসামাল করে তুলেছে দ্বীপরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে। বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত শ্রীংলকা। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ঠেকেছে যে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশছোঁয়া।

চলমান এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানারকম আলোচনা। আর এ সংকট এড়াতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রবাসীরা। আর প্রবাসীদের এই বীর সৈনিকের মত কাজই শ্রীলঙ্কার পরিণতি হতে আমাদের দেশকে রক্ষা করছে। আপনি জানেন কি? তাহলে শুনুন:

চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে ১৩১ কোটি ২২ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে রেমিট্যান্স ১৮ হাজার কোটি টাকা ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেমিট্যান্সসহ বেশ কিছু আয় যোগ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমকি ৩৫ বিলিয়ন ডলারে যা অর্থনীতির বিরাট ঝুঁকিতে মৃদু আশার আলোর ঝলক।

অতচ, বিমানবন্দরে প্রবাসীরাই সবচেয়ে বেশী হয়রানির শিকার হয়! ভারত, পাকিস্তান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আসা যাওয়ার যে টিকেট ৩০/৩৫ হাজারের মধ্যে সেই টিকিট কিছুদিন আগে বাংলাদেশে নিয়েছে ১ লাখের কম/ বেশী। সেটা নিয়ে তখন বিরাট হাঙ্গামা হয়েছিল। মনে আছে? এছাড়া ভারত/ পাকিস্তান থেকে নতুন কাজের ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আসতে খরচ হয় ২/৩ লাখের মত। আর নেপাল থেকে মাত্র ৭০/৮০ হাজার রুপি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে? কেন এই মাফিয়াগিরী?

মন্ত্রী সাহেব প্রবাসী রেমিট্যান্সের উপর ভিত্তি করে দেশ শ্রীলঙ্কা হবেনা বলে মনোবল দৃঢ় দেখাচ্ছে, ওয়েল! কিন্তু প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে সরকার কি করছে? পৃথিবীর আর কোন এয়ারপোর্টে এত বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম দেখা যায়না যতটা আমাদের দেশের এয়ারপোর্ট দেখা যায়। বিবেক কি মরে গেছে? সেই বিশৃঙ্খলা দেখার কি কেউ নাই?

আর এই অসহায় প্রবাসীদের নিয়ে আরেক ভাই বলেন, প্রবাসী ভাইয়েরা আপনারা নিজদের দুঃখ, অসুবিধা, প্রতিবন্ধকতা, অভিযোগ তুলে ধরেন। এখনই উপযুক্ত সময় ঘুম ভাঙ্গানোর। প্রত্যেক সরকার সোনার ডিম চায় কিন্তু সোনার ডিম দাতাদের যত্ন নিতে চায়না, সম্মান দিতে চায়না। দেশ থেকে তারা পাচার করে আর প্রবাসীরা দেশে পাঠায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.