যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইপিইএফ এ নেই বাংলাদেশ, যোগ দেওয়ার উপায় বললেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইপিইএফ এ নেই বাংলাদেশ, যোগ দেওয়ার উপায় বললেন বাইডেন

সংবাদ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার (২৩ মে) ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (সংক্ষেপে আইপিইএফ) শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারত, জাপান,

অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ব্রুনাই- মোট এক ডজন দেশ এতে যোগ দিয়েছে। সবগুলো দেশই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই ১৩টি দেশ বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইপিইএফ দেশটির সম্প্রসারিত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অর্থনৈতিক অংশকে প্রতিফলিত করে।

একে এই অঞ্চলে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিপক্ষ শক্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। আইপিইএফ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জেক সালিভান এটি উদ্বোধনের আগে হোয়াইট হাউসের

এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেনঃ আমেরিকান পরিবার এবং কর্মীদের অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতির কেন্দ্রে রাখার জন্য আইপিইএফ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিশ্রুতির অংশ। এর পাশাপাশি, মিত্র ও অংশীদারদের সাথে মিলে একত্রে সমৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করাও এর উদ্দেশ্য।

ওই ব্রিফিং এ জানানো হয়ঃ আইপিইএফ চারটি “স্তম্ভকে” কেন্দ্র করে তৈরিঃ ‍সংযুক্ত অর্থনীতি, সহনশীল অর্থনীতি, দূষণমুক্ত অর্থনীতি, এবং ন্যায্য অর্থনীতি। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো উক্ত চারটি থেকে নিজেদের পছন্দমতটি নির্বাচন করতে পারবে। লক্ষণীয় যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ হওয়া স্বত্ত্বেও এই ফ্রেমওয়ার্কে যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই। ঢাকার সচেতন মহলের দাবি, ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন এই উদ্যোগ শুরুর সময়ে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তরফে কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে ব্রিফও করা হয়েছিল। কিন্তু, ঢাকার তরফে আগ্রহ কম ছিল।

ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ব্রায়ান শিলারও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ বাংলাদেশের সঙ্গে আইপিইএফ নিয়ে (যুক্তরাষ্ট্রের) আলোচনা চলছে। আইপিইএফ নিয়ে ভবিষ্যতে মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে- এমনটাও নিশ্চিত করেন তিনি। তবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার এ ব্যাপারে ঢাকার একটি পত্রিকাকে বলেছেন, “আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানি না মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান অবশ্য বলেছেন, “এটি একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। সুতরাং, এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্যান্য দেশগুলোও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারবে।”

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছেঃ যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্যোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে তা বোঝা গেলো টোকিওর অনুষ্ঠানে বাইডেনের বক্তব্যেও, “ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সুগভীর। আমরা দীর্ঘ পথ চলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সেই সাথে এই ফ্রেমওয়ার্কে ভবিষ্যতে কোনো দেশ যোগ দিতে চাইলে তাকে কী করতে হবে সে পথও বাতলে দিয়েছেন বাইডেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, এই ফ্রেমওয়ার্কটি অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে যারা ভবিষ্যতে যোগ দিতে চায়। যদি তারা এতে স্বাক্ষর করে, এর শর্তগুলো পূরণ করে এবং লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য কাজ করে।”


Leave a Reply

Your email address will not be published.