কুসিক নির্বাচন, আ.লীগ-বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে

কুসিক নির্বাচন, আ.লীগ-বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে

রাজনীতি: আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন। এখন পর্যন্ত ছয় জন মেয়র প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। এই ছয় জনের মধ্যে চার জনকে নিয়েই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কারণ এই চার প্রার্থীর দু’জন বিএনপির ও দু’জন আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, গত দুই নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আফজল খান এবং তার মেয়ে

ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। ওই দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের হস্তক্ষেপে বাবা ও মেয়ের পরাজয় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত দুই নির্বাচনে তেমন প্রকাশ্যে আসেনি দলটির এই গ্রুপিং কোন্দলের কথা।

তবে এবার প্রকাশ্যে এসেছে নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লার আওয়ামী লীগের কোন্দলের কথা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলছে স্থানীয় খান পরিবার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য

আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মধ্যে। এবার মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আস্থাভাজন আরফানুল হক রিফাত। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা

সীমার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। মাসুদ পারভেজ খান মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। অবশ্য কোন্দলের বিষয়টি এড়িয়ে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বলেন, কোন্দলের কিছু নেই। আমি দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি না। ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। মানুষ জানে সাক্কু-রিফাত একই সুতোয় গাঁথা। এবার তাই পরিবর্তনের আশা নিয়ে নির্বাচন করছি।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, কোন্দল বলে অপপ্রচার হচ্ছে, হোক। বর্তমানের মহানগর আওয়ামী লীগ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। জয়ের বিষয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০১১ সালের ১২ নভেম্বর বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেই তিনি জয় লাভ করেন।

ওই সময় বিএনপির একটি অংশ তার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়। সেসময়ও কোন্দলের মধ্যে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন দেন এবং আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগে জয়ী হন সাক্কু। এবারের নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। যেকারণে বিএনপি থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি নিজাম উদ্দীন কায়সার। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে যাওয়ায় তাকেও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারকে তোয়াক্কা না করেই এই দুই নেতা নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি ১০ বছর মানুষের ভালোবাসায় তাদের পাশে থেকেছি। কুমিল্লার মানুষ বারবার আমাকে নির্বাচিত করেছে। এবারও তারা তাকে জয়ী করবেন। কোন্দল বুঝি না। মানুষের সেবায় কোনও কোন্দল হলে সমস্যা নেই। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, কোন্দল বলার সুযোগ নেই। তিনি (সাক্কু) আওয়ামী লীগের লোক। আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আমি মানুষের পক্ষে নির্বাচন করছি। মানুষ আমাকে বিজয়ী করবে। উল্লেখ্য, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এবার ছয় জন মেয়র প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া ১১১ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৩৭ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দের পর ১৫ জুন ভোটগ্রহণ হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.