জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী এখন গণশৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক

জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী এখন গণশৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক

ভাগ্য কখন কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করায়, কে বলতে পারে! যার উদাহরণ নব্বই দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী মনসুর হাসান।

এক সময় মুগ্ধতা ছড়াতো যার কণ্ঠ, সময়ের পরিক্রমায় তিনি এখন চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান মোড়ের গণশৌচাগারের তত্ত্বাবধায়ক!

নেই ঘরবাড়ি-সংসার। ফুটপাতের ছোট্ট বেঞ্চিই তার ঠিকানা। রোগ-শোকে আক্রান্ত সেই শিল্পীকে এখন চেনাই দায়। নব্বই দশকের পরিচিত ব্যান্ড দল ‘ব্লু হরনেট’

এর সাবেক সদস্য এই মনসুর হাসান। মহসিন কলেজে এইচএসসি ২য় বর্ষে পড়ার সময় ৬ বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ডটি। মনসুরের গাওয়া বেশক’টি গান তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তিনি গান লিখতেন, গাইতেন।

ব্লু হরনেটের একমাত্র অ্যালবামে ১৪টি গানের ৩টি মনসুরের। অথচ ভাগ্য আজ কোথায় দাঁড় করিয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ালেখায় বিরতি, পরিবারের সাথে দুরত্ব, রাজনীতিতে জড়িয়ে কারাবরণ,

বাবা মায়ের মৃত্যু এবং সবশেষে ঘর ছেড়ে পথে নামা, সব মিলিয়ে নাটকীয় জীবন এই শিল্পীর। মনসুর হাসান বলেন, ভারত থেকেও আধুনিক গানের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি, সে সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যায়।

বিয়ে না করায় সংসার হয়নি এই গুণী শিল্পীর। খেয়ে না খেয়ে পথে ঘাটে কেটেছে বহু রাত। বছর চারেক আগে ৯ হাজার টাকা বেতনে গণশৌচাগার দেখভালের চাকরি নেন এই গায়ক। এখন থাকেন ফুটপাতের বেঞ্চিতে।

৫৪ বছর বয়সী মনসুরের শরীরে এখন নানা রোগের বাসা। ক’দিন আগে তার পরিচয় জেনে চিকিৎসা ও সহায়তার উদ্যোগ নেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। সুমন জানান, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন মনসুর। তা কাটানোর জন্য চলছে ওষুধ। তবে ভাগ্য ফিরবে কি? সে উত্তর এখন সময়ই বলে দেবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.