কুসিক নির্বাচনে সুবিধায় আ’লীগ

কুসিক নির্বাচনে সুবিধায় আ’লীগ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর টানা দুই মেয়াদেই সরকারদলীয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন সাবেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু।

বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় সাক্কু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সেইসঙ্গে এবার কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কোমর বেঁধে নেমেছেন নির্বাচনী মাঠে।

এরইমধ্যে কুসিকের মেয়র নির্বাচনে কে কার ‘ভোট কাটবে’ তা নিয়ে নানা হিসাব কষতে শুরু করেছেন ভোটাররা। তাদের ধারণা, দলীয় টানাপোড়েনে দীর্ঘদিন দখলে থাকা সিটি করপোরেশনের নেতৃত্ব এবার হারাবে বিএনপি।

এদিকে, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দুই নেতাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের আগে সদ্যবিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আর নিজাম উদ্দিন কায়সার কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সাংগঠনিকভাবে দলে টানাপোড়েন থাকলেও বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা। গত দুটি নির্বাচনে সাক্কু ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হয়েছেন।

তবে এবার নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সাক্কুর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা। যে কারণে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের হাতে যেতে পারে এই সিটির নেতৃত্ব। তবে নিজাম উদ্দিন কায়সার প্রার্থী হওয়ায় মোটেও বিচলিত নন মনিরুল হক সাক্কু। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমার দলেরই ছোট ভাই কায়সার। সে ইমোশনাল হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। সাক্কু বলেন, কুসিকের প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ এবারও বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

কায়সারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে তারও অধিকার আছে নির্বাচন করার। তবে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে নিজাম উদ্দিন কায়সার জাগো নিউজকে বলেন, আমি কারও প্রতিপক্ষ নয়। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব এবং কুমিল্লাকে উন্নয়নশীল নগরীতে পরিণত করতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা করছি, কুমিল্লার মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করে ১৫ জুন বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। কারণ মানুষ নেতৃত্বে নতুনত্ব চায়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে দলীয় পদধারী কোনো নেতা যদি তাদের পক্ষে কাজ করেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এরইমধ্যে আমরা এমন একটি বিজ্ঞপ্তিও ঘোষণা করেছি। আশা করছি, সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে চলবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন জাগো নিউজকে বলেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপির দুই নেতা মূলত আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তারা দুই গ্রুপের শক্তি জানান দিতে এবার মাঠে নেমেছেন। এছাড়া গত ১০ বছরে তাদের কর্মকাণ্ডে নগরবাসী ক্ষুব্ধ। এবার কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১৫ জনু বিপুল ভোটে আমরা জয়লাভ করবো। ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে প্রার্থী হন মনিরুল হক সাক্কু। ওই নির্বাচনে ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আফজল খান। তিনি পান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট। ২০১৭ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন মনিরুল হক সাক্কু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আফজল খানের মেয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। নিতি পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট। এবারের তফসিল অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে। এর পর থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন। এবার কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০। তাদের মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২। পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬। এবার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, সদ্যবিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (স্বতন্ত্র), নিজাম উদ্দিন কায়সার (স্বতন্ত্র), ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম ও নাগরিক কমিটির কামরুল আহসান বাবুল (স্বতন্ত্র)।


Leave a Reply

Your email address will not be published.