ঢাবিতে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র, ছাত্রলীগ সম্পাদক বললেন ‘সুযোগ নেই’

ঢাবিতে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র, ছাত্রলীগ সম্পাদক বললেন ‘সুযোগ নেই’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ব্যবহার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র।

সংঘর্ষের সময় হাইকোর্ট এলাকায় শোনা গেছে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ। আগ্নেয়াস্ত্র ছাত্রলীগের বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। তবে ছাত্রলীগ বলছে, এমন করার সুযোগ নেই।

সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এসময় হাইকোর্ট এলাকায় নিজেদেরই পাঁচ কর্মীকে ছাত্রদল ভেবে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার দিকে হাইকোর্টের সামনের শিক্ষা চত্বর দিয়ে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় এ সংঘর্ষ বাধে।

প্রথমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা কিছুক্ষণ প্রতিরোধ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া করলে ছাত্রদলের কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে হাইকোর্ট ও গুলিস্তানের দিকে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হটাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হেলমেট পরে চাপাতি, দা, লাঠি, রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দিক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার শব্দও শোনা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা, শহীদ মিনার, টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, শাহবাগ, পলাশী এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা কলেজের নেতাকর্মী।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা করে। ছাত্রদলের ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জন্য আমাদের আহত নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।

তবে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসের মেগা সিরিয়ালের যে সূচনা এটা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল করেছে। আজও ছাত্রদল আগের চেয়ে বেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করেছে। ছাত্রদল অত্যাধুনিক অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করেছে। ছাত্রদল শুধু ক্যাম্পাসকে নয় রাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা সুপ্রিম কোর্টেও অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সাদ্দাম হোসেন এড়িয়ে যান।

তবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিল। ক্যাম্পাসের অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। ক্যাম্পাস এলাকায় ছাত্রদলের কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।

টিএসসি এলাকায় যার হাতে অস্ত্র দেখা গেছে সে ছাত্রলীগের কর্মী কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে সাদ্দাম বলেন, ছাত্রলীগের কোনো কর্মীর এরকম অস্ত্র ব্যবহার বা রাখার সুযোগ নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published.