লন্ডনে স্ত্রী, সন্তান রেখে দেশে চলে আসতেন, কেয়ারটেকারের স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা অবশেষে…

লন্ডনে স্ত্রী, সন্তান রেখে দেশে চলে আসতেন, কেয়ারটেকারের স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা অবশেষে…

অবশেষে কবুল করলেন লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মুমিন। বাসার কেয়ারটেকারের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন তিনি আর সেগুলোর ভিডিও করতেন।

লন্ডন থেকে অশ্লীল চ্যাট করেছেন। পুলিশ মোবাইল ফোনে পেয়েছে এসবের প্রমাণ। তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন আব্দুল মুমিন।

গতকাল রিমান্ড শেষ হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আব্দুল মুমিন। স্ত্রী, সন্তানসহ বসবাস করেন লন্ডনে।

সিলেটের মীরবক্সটুলায় আজাদী আবাসিক এলাকায় তার বাসা। স্ত্রী, সন্তানদের লন্ডনে রেখে দেশে আসতেন তিনি। নজর পড়েছিল বাসার কেয়ারটেকার আব্দুল মালেকের স্ত্রীর উপর।

অসুস্থতার ভান করে এক সময় কেয়ারটেকারের স্ত্রীকে দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করাতেন। এরপর এই ম্যাসেজের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে আশ্রয় নেন ব্ল্যাকমেইলের। ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ধ’র্ষণ করেন।

দিনের পর দিন এভাবেই তিনি কেয়ারটেকারের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করেন। বিষয়টি নজর এড়ায়নি কেয়ারটেকার আব্দুল মালেকের।

রাগে, ক্ষোভে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। এরপর বিয়ের দাবি তোলেন ধ’র্ষিতা। তাড়িয়ে দেয়া হয় তাকে। অবশেষে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

আর এই মামলায় গত রোববার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রবাসী আব্দুল মুমিনের মূল বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার পইলগ্রামে। মামলায় ধ’র্ষিত নারী উল্লেখ করেছেন, লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মুমিন প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী আব্দুল মালেককে তার বাসার কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেন। কেয়ারটেকার আব্দুল মালেক স্ত্রীসহ ওই বাসায় থাকতেন। বাসায় অবস্থানকালে কেয়ারটেকার দম্পতির এক মেয়ে সন্তানও জন্মগ্রহণ করে। আব্দুল মালেককে বাসার কেয়ারটেকার নিয়োগ দিলেও স্ত্রী ও সন্তানদের লন্ডনে রেখে প্রায়ই দেশে আসতেন আব্দুল মুমিন। কেয়ারটেকার মালেকের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

একপর্যায়ে অসুস্থতার ভান করে তিনি কেয়ারটেকারের স্ত্রীকে দিয়ে তার শরীর ম্যাসেজ করাতেন। গোপনে আব্দুল মুমিন ম্যাসেজের ভিডিও তুলে রাখেন। ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখাতেন মালেকের স্ত্রীকে। একপর্যায়ে করেন ধ’র্ষণও। প্রবাসী আব্দুল মুনিম দিনের পর দিন ধ’র্ষণ করতে থাকেন। কেয়ারটেকার আব্দুল মালেক বিষয়টি টের পেয়ে যান। এ নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে অশান্তি নেমে আসে। রাগে, ক্ষোভে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। আব্দুল মালেক চলে যাওয়ার পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কেয়ারটেকারের তালাকপ্রাপ্তা ওই নারীকে ধ’র্ষণ করতে থাকেন প্রবাসী আব্দুল মুনিম।

সম্প্রতি আব্দুল মুমিন সস্ত্রীক দেশে আসলে তালাকপ্রাপ্তা ওই মহিলা তার বাসায় গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন লন্ডনি আব্দুল মুমিন ও তার স্ত্রী মুসলেহা খান। তারা ধর্ষিতা নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় তালাকপ্রাপ্তা গত ২২শে মে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় আব্দুল মুনিম ও তার স্ত্রী মুসলেহা খানমকে আসামি করে ধ’র্ষণ মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ লন্ডন মুনিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এদিকে স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলার অপর আসামি মুসলেহা খানম এখনো পলাতক রয়েছেন। কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ গতকাল বিকালে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মিরবক্সটুলা এলাকার ওই নারী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ আব্দুল মুমিনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় মুমিন ধ’র্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তার কাছ থেকে ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল মুমিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.