চোখ ধাঁধানো চিরকুট লিখে পরপারে চলে গেলেন গৃহবধূ

চোখ ধাঁধানো চিরকুট লিখে পরপারে চলে গেলেন গৃহবধূ

সংবাদ: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীপাড়া গ্রামে রিয়া ঢালী (১৯) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গতকাল শুক্রবার (২৭ মে)

সকালে আত্মহ’ত্যা করেছেন। নিহত রিয়া ওই গ্রামের নান্নু ঢালীর মেয়ে ও একই উপজেলার ভুমখারা ইউনিয়নের কালাইবাজার এলাকার কামাল ফকিরের স্ত্রী।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আপন খালাতো ভাই কামাল ফকিরের সঙ্গে। বিয়ের আগে থেকেই মালয়েশিয়া থাকত কামাল।

শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি আর ননদের খারাপ ব্যবহার চলছিল শুরু থেকেই। দুই মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন রিয়া। রিয়ার বাবা সব জানার পর রিয়াকে

শ্বশুরবাড়ি আর যেতে দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি মেয়েকে পড়াশোনা করার জন্য নড়িয়া সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করিয়ে দেন। এভাবে চলছিল রিয়ার জীবন।

দুই দিন আগে রিয়ার শাশুড়ি ও ননদ কহিনুর বেগম এসে ‘কেন যাবে না তাদের বাড়ি’ সে কথা বলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে চলে যায়। আর সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সকাল ৯টার সময় গোসলখানার চালের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আত্মহ’ত্যা করার আগে তিনি একটা চিরকুট লেখেন। সেখানে লেখা ছিলো, আমারে মাফ কইরা দিয়ো সবাই, আল্লাহ হাফেজ, আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। রিয়ার বাবা নান্নু ঢালী বলেন,

আমার মেয়েকে শাশুড়ি ও ননাস বিভিন্নভাবে অত্যাচার করত। আমি শুনে মেয়েকে আর শ্বশুরবাড়ি দেব না বলে কলেজে ভর্তি করে দিই। গতকাল রিয়ার শাশুড়ি ও ননাস এসে অনেক বাজে ভাষায় গালাগাল করে গেছে। আমি বাড়ি ছিলাম না। আজকে সকালে আমার মেয়ে এ কাজ করল।

নড়িয়া থানার ওসি মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.