নতুন প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

নতুন প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

রাজনীতি: বিরোধী দল রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই রাজনৈতিক আন্দোলন অনেকটাই দৃশ্যমান। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপিকে অনেকটা আক্রমণাত্মক এবং সহিংস অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি যেন গায়ে পড়ে ঝগড়া করার মতো বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস, সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে। বিএনপির অবস্থান সুস্পষ্ট। তারা মনে করছে যে, এখনই রাজপথে আন্দোলন করার সময়। আর এ কারণেই সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে

রাজপথে আন্দোলন করার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অন্যতম নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বলেছেন যে, শুধু মার খেলে হবেনা, মার দিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের এরকম আক্রমণাত্মক অবস্থান নিঃসন্দেহে রাজনীতির উত্তাপেরই পূর্বাভাস। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই অবস্থায় চুপচাপ হাত-

পা গুটিয়ে বসে থাকবে না। বিশেষ করে অন্যান্য সময়গুলোতে যেভাবে আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিল তেমনটিও থাকতে চায় না। বরং আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াত এবং অন্যান্য বিরোধী দলকে রাজপথেই মোকাবেলা করতে চায়। আর রাজপথে মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় শিক্ষা। সেখানে ছাত্রদলের মারমুখী আচরণ প্রমাণ করেছে যে বিএনপি এখন একটি লাশের রাজনীতি করতে চায়। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছে যে, বিএনপি এখন ক্যাম্পাসে বা যেকোনো জায়গায় লাশ ফেলতে চায় এবং এই লাশ নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায়।

আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবেই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা আছে। আওয়ামী লীগের সারাদেশে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা শীর্ষ নেতারা ঢাকার বাইরে চষে বেড়াচ্ছেন, আওয়ামী লীগ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান করবে। এই কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে মূল মনঃসংযোগ দিয়েছে দলটি।

কিন্তু এর পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিও গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২৫শে জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। ২৩শে জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দুটি দিনকে সামনে রেখে ১লা জুন থেকে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। তাছাড়াও আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হবে। এসব নিয়ে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিক কর্মসূচির পদক্ষেপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ১লা জুন থেকেই আওয়ামী লীগ রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নামবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলের উস্কানির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। এটিকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছে যে, ছাত্রলীগের এটি যথাযথ এবং দায়িত্বশীল কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এরকম নাশকতা বা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ছাত্রলীগ প্রতিহত করবে। শুধু ঢাকায় না, সারাদেশেই যেন বিএনপি-জামায়াতের অপতৎপরতা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে রুখতে পারে সেদিকে নজর দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে বৈঠক শুরু করেছেন এবং বিরোধী আন্দোলন কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি কিভাবে প্রণয়ন করতে হবে সে ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মুখর দেখা যাবে। বিশেষ করে আগামী জুন মাস পুরোটাই আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে বিভিন্ন রকম কর্মসূচির মধ্যে পাওয়া যাবে বলেও তারা নিশ্চিত করেছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.