‘তারেক রহমান বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’

‘তারেক রহমান বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’

রাজনীতি: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘দিশেহারা জাতির পথপ্রদর্শক ও আলোর দিশারী’ উল্লেখ করে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন,

‘জিয়াউর রহমান দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশের হাল ধরে, দেশের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন বলে আজও তিনি বাঙালি জাতির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।’ সোমবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের

৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও কাঙালিভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই কথা বলেন তিনি। এদিন গিয়াসউদ্দিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, জালকুড়ি, পশ্চিম তল্লা,

দেওভোগ, কাশিপুর, বক্তাবলীসহ বেশ কয়েকটি স্পটে আয়োজিত কাঙালিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুঃস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন।

‘বর্তমান সরকার দুঃশাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে নসাৎ করে দিয়েছে’ মন্তব্য করে গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘এই সরকার আমলে যেমন দুর্নীতি হচ্ছে তেমনি গণতন্ত্রকে তারা হত্যা করেছে। হত্যা গুমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য যতকিছু করার করে যাচ্ছে।

তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছে। শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা বিরোধী দলই নয়, আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ আছেন তারাও আজ লজ্জাবোধ করেন সরকারের কার্যকলাপের কারণে। মানুষ এখন তাদের কর্মকাণ্ডে ছিঃ ছিঃ করে।’ ‘এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে যতটুকু শান্তি অবশিষ্ট আছে সেটাও ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কারণেই মানুষ এই সরকারের পতন চায়। একটা পরিবর্তনের জন্য তীব্র আকাক্ষা নিয়ে বসে আছে’ বলেন গিয়াসউদ্দিন। ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং অমানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, এই দেশের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মুখ দিয়ে কোনোদিন একটি খারাপ বাক্য উচ্চারিত হয়নি। তার বক্তব্য শোনার জন্য মানুষ অধির আগ্রহে থাকেন।

‘তারেক রহমানকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশছাড়া করে রাখা হয়েছে। বাংলার মানুষ অপেক্ষা করছে কোনদিন প্রিয় নেতা দেশে আসবেন, দেশের মানুষের দায়িত্ব নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।
মানুষ তার বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করে। এত জনপ্রিয় নেতা হওয়ায় সরকারি দলের সমস্ত নেতা নেত্রীর মুখের জ্বালা, দেহের জ্বালা, হৃদয়ের জ্বালা শুধু তারেক রহমান। আমাদের নেতা কিন্তু দেশে নাই। তারপরও তাকে এত ভয় পায় এই সরকার। তার বিরুদ্ধে শুধু কথা বলে। এই ভয়ের একমাত্র কারণ তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা।’

গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘এই সরকারের দুঃশাসন সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এ কারণে নির্যাতন হত্যা গুমকে উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফুর্তভাবে মানুষ আন্দোলন করছে। সরকারের পরিবর্তন চাইছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে মতানৈক্য, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান গিয়াসউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। মতানৈক্য হতে পারে। কিন্তু আমাদের একটাই পরিচয় আমরা শহীদ জিয়ার হাতে গড়া গণমানুষের দল বিএনপির কর্মী। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মী। ফলে আমাদের মূল পরিচয় আমরা সকলেই ভাই ভাই।’ কাঙালিভোজের এসব অনুষ্ঠানে গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাস, ঢাকসুর সাবেক নেতা ও কেন্দ্রীয় মৎসজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন মেহেদী, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হালিম জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লূৎফর রহমান খোকা, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন খন্দকার শিপন, সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন রতন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুমন আকবর, সহসভাপতি লোকমান হোসেন প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.