স্ত্রী’র মন ভালো রাখার উপায়- বিস্তারিত জেনে নিন

স্ত্রী’র মন ভালো রাখার উপায়- বিস্তারিত জেনে নিন

অন্যরকম: স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক ভালোবাসা ও মায়া-মমতার উপর প্রতিষ্ঠিত দাম্পত্য জীবন। মহান আল্লাহ তাআলা ভালোবাসা ও সুখ-শান্তিময় এ বন্ধনের কথা তুলে ধরেছেন কুরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। তবে আজ জানাবো স্ত্রী’র মন ভালো রাখার উপায়ঃ

★আপনার স্ত্রীর যদি ঘন ঘন মুড সুইং হয়,তবে তাকে পর্যাপ্ত সময় দিন।যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন,তার মন বুঝার চেষ্টা করুন।আপনার সামান্য একটু আন্তরিকতা তার মন ভালো করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট!

★স্ত্রী ঠিক কি কি খেতে পছন্দ করে,তার প্রিয় খাবারগুলো অফিস থেকে ফেরার সময় বাসায় নিয়ে যান।সারাদিন মন খারাপ থাকলে খাওয়ার ইচ্ছে না থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই রাতে তার পছন্দের খাবারগুলো নিয়ে দু’জন একসাথে বসে খান!

★সারাদিন বাসায় বসে থাকতে থাকতে তার হয়তো একঘেয়েমি লাগতে পারে!তাই অন্তত ছুটির দিনগুলোতে এমন কোথাও তাকে নিয়ে ঘুরতে যান,যেখানে দু’জন একান্ত সময় কাটাতে পারবেন।কেননা প্রিয়জনের সাথে সময় কাটালে মানুষের বিষন্নতা দূর হয়ে যায়!

★দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী’র মাঝে মাঝে রাগ-অভিমান হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে স্ত্রী অভিমান করলে,বাসায় ফেরার পথে তার জন্য একটি গোলাপ আর কিছু চকলেট সাথে নিয়ে যেতে পারেন। গোলাপ আর চকলেট দেখে অন্তত সে আর রাগ করে থাকতে পারবে না!

★স্ত্রী যদি রোমান্টিকতা পছন্দ করেন,তবে কষ্ট করে হলেও তার ছোট ছোট আবদার পূরণ করার চেষ্টা করুন।চাইলে কোনো এক টং এর দোকানে বসে দু’জন মিলে চা খেতে পারেন!
★জোছনা রাতে দুজন চাঁদ দেখতে পারেন,সেই সাথে তার সাথে সুখ-দুঃখের মিষ্টি মিষ্টি গল্প করলেও কিন্তু মন্দ হবে না।তার যতই মন খারাপ থাক,আপনার এমন রোমান্টিকতায় সে মুগ্ধ হয়ে যাবে!
★স্ত্রী অসুস্থ থাকলে অন্তত ওষুধ খাওয়ানোর দায়িত্বটা নিজেই বহন করুন।কেননা অসুস্থ থাকলে কোনো কিছু ভালো লাগে না,ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়ারই সম্ভাবনা থাকে।তাই নিয়ম করে আপনিই সে ক’টা দিন তাকে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিন কিংবা পাশে থাকলে নিজেই খাওয়ান!

★অফিস থেকে ফিরে ছোট ছোট কাজে,রান্নার কাজে তাকে সাহায্য করুন।যদি রান্না করতে পারেন,তবে সপ্তাহে অন্তত একটা দিন(ছুটির দিন) তাকে রান্না করে খাওয়ান।
★তার বিশেষ দিনগুলোতে(পিরিয়ড+প্রেগনেন্সি+শারীরিক অসুস্থতায়)তাকে পর্যাপ্ত সময় দিন।শত ব্যস্ততার পরেও তার ঘন ঘন খোঁজ নিন।তার খেঁয়াল রাখুন।তার সাথে অন্তত এই সময়গুলোতে বাজে ব্যবহার করবেন না। এই বিশেষ দিনগুলোতে সব মেয়েদেরই মুড সুইং হয়,ভালো কথাতেও রেগে যায়,অকারণে অভিমান করে।তবে আপনাকে এই সময়গুলোতে হতে হবে সহনশীল!তাকে বুঝতে হবে,তাকেও বুঝাতে হবে।আন্তরিকতার সাথে তার সাথে মিশতে হবে!তার ঠিক কি করলে মন ভালো হবে,সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। স্ত্রীর মন ভালো রাখার জন্য আহামরি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না বলে আমি মনে করি।তবে সব স্ত্রী যে এগুলোতে সন্তুষ্ট থাকবে,তাও বলছি না।তবে বেশিরভাগ স্ত্রীই তার স্বামীর কাছে শুধুমাত্র এটুকুই আশা করে।

মনে রাখবেন, আপনার শত ব্যস্ততার মাঝেও স্ত্রীর জন্য সময়,যত্ন আর ভালোবাসাই পারে তার মন ভালো রাখতে।যা কখনোই স্ত্রীকে টাকার পাহাড়ে শুইয়ে রাখলেও পারবেন না।দাম্পত্য জীবনে টাকার চাইতে বেশি জরুরি দুজনের বোঝাপড়া,আন্তরিকতা আর পরস্পরের ইতিবাচক মনোভাব। জীবন সঙ্গীর পিছনে শুধু টাকা ব্যয় করার চেয়ে সময় ব্যয় করাটা বেশি জরুরি। কেননা টাকা দিয়ে কেবল সৌখিন চাহিদা পূরণ করা যায়,তবে মনে পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবন পার করা যায় না!


Leave a Reply

Your email address will not be published.