এটা সত্য, আমার দুই-তিনবার বিয়ে ভেঙেছে: তথ্যমন্ত্রী

এটা সত্য, আমার দুই-তিনবার বিয়ে ভেঙেছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা যদি বিসিএস পরীক্ষা দিতেন, তারাও সচিব হতে পারতেন। অনেকে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়েও সাংবাদিকতা করেন। অনেক সাংবাদিক বলেন,

তারা সাংবাদিকতা করেন বলে তাদের কাছে অনেক বাবা মেয়ে বিয়ে দিতে চান না। এটা সত্য, তবে আমি রাজনীতি করি বলে আমার দুই-তিনবার বিয়ে ভেঙেছে। প্রত্যেকটি পেশায়ই চ্যালেঞ্জ আছে। সাংবাদিকতায়ও রয়েছে।’

সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‌‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‌‘অনেক সময় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে জীবন হারাতে হয়,

অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। তবুও তারা সংবাদটি করেন। তাদের স্যালুট জানাই।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম ও ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’-এর জুরি বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান।

দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, ‘আগামী বছর ২৫ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। আর তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা। প্রতিবছরই এই আয়োজন করবে বসুন্ধরা গ্রুপ।’

এসময় তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও স্ট্রং জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। সাংবাদিকদের মানোন্নয়নের সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ গণমাধ্যমের উদ্যোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকের মান উন্নয়ন হয়েছে।’ উল্লেখ্য, দেশের গণমাধ্যমে গত বছর প্রকাশিত ও প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিচার বিশ্লেষণ করে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১১ জনকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকতা প্রসারে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে ৬৪ জন প্রবীণ ও গুণী সাংবাদিককে দেয়া হচ্ছে বিশেষ সম্মাননা। এর মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ঘিরে সাংবাদিকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। কারা পাচ্ছেন বহুল প্রতীক্ষিত এই পুরস্কার-এ নিয়ে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ঢাকার সাংবাদিকরা ছাড়াও মফস্বল থেকে প্রচুর প্রতিবেদন জমা পড়ে। পুরস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক মানের জুরি বোর্ড।

অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমানের নেতৃত্বে জুরি বোর্ডে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায় থাকা টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিভি টুডে’র প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক অমিত হাবিব, আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুন, চলচ্চিত্র শিক্ষক গবেষক ও পরামর্শক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, দেশে বিদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া জুলফিকার আলি মাণিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার।


Leave a Reply

Your email address will not be published.