দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর বিয়ের পূর্বে যুবকের আ’ত্মহত্যা, জানা গেল আসল কারণ

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর বিয়ের পূর্বে যুবকের আ’ত্মহত্যা, জানা গেল আসল কারণ

ফ্যামিলির মানুষ গুলোর একটু সুখের জন্য সব মায়া ত্যাগ করে প্রবাসে আসা ছেলেটি জানিনা এবার কার সুখের আসায় দুনিয়ার মায়া ও ত্যাগ করে পৃথিবী থেকে চলে গেছে।

আত্মহত্যাকারী ছেলেটির নাম রাব্বি, কাতারের দোহা জেদিদে বসবাস করতেন। দেশের বাড়ি চট্রগ্রামের হালি শহর, হাউজিং কলোনি রোড, স্টিল মিলস্ বাজার, উওর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

সাপ্লাই মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করত।
উনার সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, মানুষ টা অনেক সহজ-সরল টাইপের ছিলেন, সবসময়ই সোজা সাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করতেন। নিজের মনের কথা ঠিকমতো কারো সাথে প্রকাশ করতো না।

আগামী ১৫ জুনে কোরবানির ঈদে দেশে যাওয়ার জন্য টিকেটও বকিং করছে, বিয়ের জন্য স্বর্ণ ও অন্যান্য মালপত্রও কেনাকাটা শেষ করেছে (love marriage)। বাড়িতে মা-বাবা ও একজন বোন আছে। উনার রুমমেটরা জানাই রাতে থেকেই নাকি উনি বেশ উদাস আর মন খারাপ করে।

তবে সুইসাইডের কারণ টা জানা যায়নি। হতে পারে ফ্যামিলি বা অন্যকারও কাছ থেকে পাওয়া আঘাত টা সহ্য করতে না পেরেই পৃথিবীর মায়াও ত্যাগ করে নিজ রুমে ফাঁ’সি দিয়েছে।

আসলে প্রবাসীরা ভোগ- বিলাসিতা কিংবা নিজেদের সুখের জন্য বিদেশ আসেনি, ফ্যামিলির কথা চিন্তা করেই এসেছে। দেশে যারা আছে তারা মনে করে প্রবাসী রা অনেক সুখে আছি, টাকার পাহাড়ে কিংবা টাকার গাছ নিয়ে বসে আছে,

ছিঁড়ে ছিঁড়ে শুধু টাকা পাঠাবে। কিন্তু আমরাতো বুঝি মাস শেষে টাকা পাঠানোর জন্যে কি পরিমাণ কষ্ট করতে হয়। আপনার ভাই, ছেলে, স্বামী, বাবার প্রবাস লাইফের একদিনের কষ্ট যদি কখনো দেখতেন, সাথে সাথে বলতেন বাড়িতে চলে আসতে প্রয়োজনে না খেয়ে থাকব তবুও প্রবাসে থাকতে হবেনা।

প্রবাসীদের কষ্ট বুঝতে বেশি কিছু করতে হবেনা, “ভোররাত চার টায় ঘুম থেকে উঠে 45° সেলসিয়াস তাপমাত্রার সারাদিন রৌদে পুঁড়ে 15/16 ঘন্টা ডিউটি করে রাত নয় টায় রুমে গিয়ে কিচেনে গরম পাতিলের ছ্যাঁকা খেয়ে রান্না করার কষ্ট টা একটু আন্দাজ করুন। অবশ্যই, দেশে থেকে আপনারা কি করে বুঝবেন/ দেখবেন আর বলবেন।

আপনারা তো প্রবাসীদের রক্তশুষে ভালোই আছেন। আমরা যারাই দেশের বাহিরে আছি, আমরা তো দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী, হাজারো কষ্ট বুকে নিয়েও বলি অনেক ভাল আছি। কোন দিন বুঝতে দেইনি আপনার সুখের জন্য আমাদের জীবনের মূল্যবান দিন গুলোকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছি।

দেশের মানুষ গুলোর কাছে একটাই অনুরোধ, বিদেশে আপনার ফ্যামিলির যেই থাকুক বাবা, ভাই, স্বামী, বন্ধু, অন্যকোন সম্পর্কের আত্মীয় হোক তাদের সাথে একটু ভাল ব্যবহার করেন, তাদেরকে একটু ফোনে সময় দেন, একটু ভালো ভাবে কথা বলুন। তারা আপনাদের কাছে এরচেয়ে বেশি কিছু আশাও করেনা। কোনরকম মেন্টালি পেইন দিবেন না,

কাছের মানুষের ছোট একটা কথাও ধনুকের তীরের মতো বুকে বাঁধে। সেসব ব্যথায় মেন্টালি সার্পোট কিংবা সান্ত্বনা দেওয়ার মতো এখানে ওনাদের কেউ নাই, সবরকম পেইন একাই নিতে হয়। প্রবাসী ভাই-বন্ধু, দেশ থেকে যে যাই বলুক না কেন, মনে কিছু নিবেন না। সামর্থ্য যতটুকু আছে ফ্যামিলির জন্য ততটুকুই করবেন। কোন রকম আঘাতে ভেঙ্গে পড়বেন না। আর কোন রেমিটেন্স যোদ্ধা / সহযোদ্ধা কে এভাবে আমরা হারাতে চাই না।


Leave a Reply

Your email address will not be published.