বিএনপিতে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

বিএনপিতে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য একজন প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

কিন্তু তিনি বরাবরই বঞ্চিত থাকেন। সবশেষ গত ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে বিএনপি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরেও এই পদবঞ্চিত নেতায়

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি জাগ্রত হয়ে উঠেছে। তৈমূরকে কেন্দ্র করে যেন পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিই সবর হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ৩০ মে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের

৪১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। আর এইদিনটিকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দিনব্যাপী কর্মসূচি নেন। এদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও

মহানগর বিএনপির বিভিন্ন জায়গায় জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং নেওয়াজ বিতরণ করেন। জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক পদধারী নেতা নিরব কিংবা আংশিক কর্মসূচি পালন করলেও

তৈমূর পুরোদমে ব্যস্ত ছিলেন। যেন দম ফেলার মতো ফুসরত ছিল না তার। জেলা বিএনপির পদে থাকাবস্থায় তিনি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার দায়িত্বহীন অবস্থায় পুরো জেলাজুরেই তিনি চষে বেড়িয়েছেন। নেতাকর্মীদের সাথে করে গাড়ি ও মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে পুরো জেলাজুরেই তিনি শোডাউন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটে নেতাকর্মীরা জাগ্রত হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় জেল জুলুমে নিস্পেষিত ও নির্যাতিত হলেও তৈমূরকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে সেরকম কোনো ভাবই ছিল না। নেতাকর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনায় এমন ছিল যেন তারা ক্ষমতায় রয়েছেন। প্রত্যেক এলাকায় নেতাকর্মীরা মিছিল করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন।

নেতাকর্মীদের সূত্র বলছে, জেলা বিএনপির গতি ফেরাতে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দেন। আর এতে আহবায়ককরা হয় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। আর এই কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলে নানা হিসেব নিকেষ। সকল হিসেব নিকেষ মিলিয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের উপরই জেলা বিএনপির দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটাতে থাকে। প্রায় প্রত্যেকটি কর্মসূচি নেতাকর্মীদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। নেতাকর্মীরা ফিরে পান মনোবল। যেন এমন নেতৃত্বের অপেক্ষাতেই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রত্যেক কর্মসূচিতেই নজরকাড়া শোডাউন চলে জেলা বিএনপির।

এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ায়ী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার মেয়র প্রার্থী হন। দল তাকে প্রথমে ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষেধ করেন। কিন্তু এই নির্দেশনা না মেনেই তৈমূর নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। সেই সাথে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্লোগান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে। তারপরেও দল এসকল বিষয় গুরুত্ব না দিয়েই নির্বাচন শেষে তৈমূরকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তবে অ্যাডভোকেট তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে সরিয়ে দিলেও নেতাকর্মীরা তৈমূরকে ছেড়ে যায়নি। সেই সাথে তৈমূর নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেননি। নেতাকর্মীদের যে কোনো সমস্যার সমাধানে তিনি সকলের আগে এগিয়ে যান। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অসুস্থ হলে তিনি সকলের আগে সেখানে ছুটে যান। পদবঞ্চিত হওয়ার পরেও তিনি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। যার কারণে পদে না থাকলেও তিনি যেখানেই যান সেখানেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

এর আগে ২০০৩ সালে তৈমুরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৭ সালে ওয়ান এলেভেনের পর বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হলে প্রথমবারের মত তার আইনজীবি হিসেবে আইনী লড়াই চালিয়ে যান তৈমুর। পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করে যার মধ্যে একটি মামলায় ১২ বছরের জেল হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে মুক্তি পান তৈমুর। ওই বছরের জুন মাসে তৈমুরকে আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। বছরের শেষের দিকে ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তৈমুর হন জেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ১৮দলীয় ঐক্য জোটের আহবায়ক করা হয়।

এরপর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। বিএনপি প্রথম দিকে তাকে সমর্থন দিলেও ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়েছে। সেবারও তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি। নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি সবসময়ই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে সরব রেখেছেন।

সূত্র: দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.